নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১৩টি টিভি চ্যানেল এখনই সম্প্রচারের অনুমতি পাচ্ছেনা। লাইসেন্স পাওয়ার সাথে সাথে মালিকানা হস্তান্তরসহ নানা অভিযোগের কারণে তাদের সম্প্রচারের অনুমতি দেয়া হচ্ছেনা। এমনকি আদৌ তাদের অনুমোদন দেয়া হবে কি না তাও অনিশ্চিত।

শনিবার সংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

গত বছর নভেম্বরে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স দেয়া হয়। দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পেতে আবেদন জানায়। লাইসেন্স প্রাপ্তদের তালিকায় আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নামের পাশে তাদের পক্ষে সুপারিশকারীর নামও আছে।


এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে গ্রিন মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের গ্রিন টিভি (চেয়ারম্যান গাজী গোলাম দস্তগীর; সুপারিশকারী:সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ), ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের নিউজ টোয়েন্টিফোর (ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান), মিলেনিয়াম মিডিয়া লিমিটেডের তিতাস টিভি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধানাদ ইসলাম দীপ্ত; সুপারিশকারী: সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন তাজ), ঢাকা বাংলা মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন লিমিডেটের ঢাকা বাংলা টেলিভিশন (ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী), মিলেনিয়াম মাল্টিমিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের মিলেনিয়াম টিভি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ; সুপারিশকারী: মমতাজ বেগম এমপি), নিউজ অ্যান্ড ইমেজের নিউ ভিশন টিভি (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আলমগীর; সুপারিশকারী: সুকুমার রঞ্জন এমপি), বারিন্দ মিডিয়া লিমিটেডের রেনেসাঁ টিভি (চেয়ারম্যান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি), রংধনু মিডিয়া লিমিটেডের রংধনু টিভি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচ এম ইব্রাহিম; সুপারিশকারী: খালিদ মাহমুদ এমপি), বিএসবি ফাউন্ডেশনের ক্যামব্রিয়ান টেলিভিশন (চেয়ারম্যান লায়ন এম কে বাশার), জাদু মিডিয়া লিমিটেডের জাদু মিডিয়া টিভি (চেয়ারম্যান আনিসুল হক), মিডিয়া বাংলাদেশ লিমিটেডের আমার গান টিভি (চেয়ারম্যান তরুণ দে), ব্রডকাস্ট ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ লিমিটেডের চ্যানেল টোয়েন্টি ওয়ান (ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন কৌশিক) এবং এটিভি লিমিটেডের এটিভি (চেয়ারম্যান আব্বাস উল্লাহ)।

এর আগে বর্তমান সরকার চারদফায় আরো ১৮টি নতুন টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স দেয়। নতুন ১৩টি লাইসেন্স দেয়ার পর এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১টি।

সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ১৩টি টেলিভিশন চ্যানেলের বেশিরভাগই লাইসেন্স পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে। এছাড়া দুটি চ্যানেলের মালিকের বিরুদ্ধে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। মূলত এসব কারণে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে নতুন ১৩টি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচারের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না।

ঢাকা, ১৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই