যৌতুকের দাবীতে বগুড়া জেলার আদমদীঘি থানার বাহাদুরপুর গ্রামে মানষী রানী গুন (২১) নামের এক সস্তানের জননীকে পিটিয়ে ও বিষ পান করিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত দুই সেপ্টেম্বর সকালে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতের মামা বাদী হয়ে স্বামী সহ চার জনের বিরোদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ আসামীরা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
আজ রোববার দুপুর আড়াইটায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের খালাতো ভাই ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.শুভ্র কান্তি দে এ অভিযোগ করেন। দ্রুতই তারা এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন।
লিখিত বক্তব্যে ড. শুভ্র কান্তি দে বলেন, ছোটবেলায় মা-বাবা হারানো মানষী তার মামা নির্মল চন্দ্র সরকারের কাছেই বেড়ে উঠেন। ২০১৩ সালের আগষ্ট মাসে শ্রী প্রবীর চন্দ্র সরকারের সাথে তার বিয়ে হয়।
এরপর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার স্বামী সহ শশুর বাড়ির লোকজন তার উপর নির্যাতন করতে থাকে এবং বিভিন্ন সময় মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। কিন্তু সাধ্য মত তাদের দাবী পূরণ করা হলেরও মানষীর উপর তাদের নির্যাতন কমেনি।
গত ফেব্রুয়ারীতে গ্রামবাসীর মাধ্যমে মানষীর উর অমানবিক নির্যাতনের খবর শুনে তার মামা গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে তাকে তার মাামর বাড়ি পাবনাতে নিয়ে আসে।
এর প্রায় চার মাস পর তার স্বামী তাকে নিতে আসেন এবং তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান। কিস্তু শশুর বাড়ি যাওয়ার সপ্তাহ পার না হতেই আবার শশুর বাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে।
কিন্তু মানষী কোন টাকা আনবে বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত দুই সেপ্টেম্বর সকালে মানষীকে তার ভাসুর ও শাশুড়ী মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এতে সে আত্মরক্ষার জন্য তার দেড় বছরের ছেলেকে নিয়ে মাামার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে স্থানীয় চাপাপুর বাজারের নিকট আসলে তার স্বামী খবর পেয়ে তাকে জোর করে বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় আনার পর তাঁর স্বামী ও ভাসুর মিলে তার গলা চিপে ধরে উপর্যুপরি কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে সে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে জোর পূর্বক বিষ জাতীয় পদার্থ খেতে বাধ্য করা হয়।
মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে প্রথমে দুপচাচিয়া সরকারী হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। বেলা চারটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আসামীরা মৃতদেহটি হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় এবং বিষপানে অত্মহত্যা বলে সর্বত্র প্রচার করে।
পরে নিহতের ননদ কৃষ্ঞা বিশ্বাস ও তার ছোট ভগ্নিপতি পুলিশের নিকট থেকে মৃতদেহ গ্রহণ করে নিজ উদ্যোগে ময়না তদন্ত করায় এবং তড়িঘড়ি করে রাতের অধারে মৃতদেহের সৎকার করে।
এ ঘটনায় নিহতের মামা বাদী হয়ে অদমদীঘি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা গ্রহন করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে অশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে সাত সেপ্টেম্বর ওসি মোঃ শওকত কবির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ০৩ এর ৯ক/৩০ ধারার আলোকে আত্মহত্যার প্ররোচনা ও সহায়তার অপরাধ সংক্রান্ত মামলা গ্রহন করে। কিন্তু নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবী ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়।
এমতঅবস্থায় আসামীদের দ্রুত গেফতার করে সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন উপস্থিত শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা।
এসএম





