বাংলাদেশের গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন? অতিসত্ত্বর চালু হতে যাওয়া সম্প্রচার নীতিমালা কতটা মিডিয়াবান্ধব? এরকম বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সরকার ও সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছে ভিন্নমত। গতকাল (মঙ্গলবার) প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বছর পেরিয়ে গেল বাংলাদেশের দুটো টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ রয়েছে। অস্থায়ীভাবে সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে-সরকারের পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হলেও কোন ইতিবাচক লক্ষন দেখা যাচ্ছে না চ্যানেল দুটো চালুর ব্যাপারে।
তবে, এরইমধ্যে যমুনা টেলিভিশনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় এবং চ্যানেলটি তার সম্প্রচার কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে পারায়, বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে আলজাজিরার প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে এমনও বলা হয়, যমুনাসহ অনেক চ্যানেল মালিকরাই মনে করেন, টিভি চ্যানেলগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার। চ্যানেল কী করতে পারবে, আর কী করতে পারবে না, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।
যমুনা টিভির সিইও নুরুল ইসলাম বাবুলের একটি সাক্ষাতকারও প্রচার করা হয়। সাক্ষাতকারে বাবুল বলেন, একটি সুস্পষ্ট নীতিমালার অভাবে ইতোমধ্যেই ক্ষতি যা হবার তা হয়ে গেছে। এখন আর কোন ক্ষতি যাতে না হতে পারে সেজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, যেই তথ্য কমিশন গঠণের প্রক্রিয়া চলছে, সেই কমিশনের উচিত হবে সব টিভি উদ্যোক্তাদের সাথে সংলাপে বসা। ওই সংলাপে টিভি সংক্রান্ত সম্প্রচার নীতিমালা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া দরকার।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার সম্প্রচার নীতিমালার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এই নীতিমালার ফলে জাতীয় ঐক্য কতটা সুসংহত হবে এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তা কতটা সুফল বয়ে আনবে, তা নিয়েও অনেকের শংকা রয়েছে বলেও প্র্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দিগন্ত টিভির উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, বছর পেরিয়ে গেলেও চ্যানেলটির সম্প্রচার আজও বন্ধ রয়েছে। চ্যানেলটির ঝলমলে স্টুডিও আজ বছরের বেশি সময় ধরে অন্ধকারে ছেয়ে আছে।
হেফাজতের আন্দোলনের সময় লাইভ সম্প্রচার চলাকালে চ্যানেলটিকে জোর করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলেও আলজাজিরার প্র্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দিগন্ত টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক জিয়াউল কবির সুমনের সাক্ষাতকার নেয়া হয় প্রতিবেদনে। সুমন আলজাজিরাকে বলেন, এখনও দুটো টিভি ও একটি পত্রিকা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তাই আমরা কি করে এই সরকারকে মিডিয়া বান্ধব বলবো-এমন প্রশ্ন রাখেন সুমন।
অবশ্য তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে মিডিয়া বিষয়ক যত অভিযোগ করা হচ্ছে, তার সবই ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম এখন শুধু মন্ত্রী নয়, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারের যেকোন প্রতিষ্ঠানের দুর্ণীতি ও অনিয়ম নিয়ে স্বাধীনভাবে সংবাদ সম্প্রচার করতে পারছে। কোন ধরনের বিধি-নিষেধের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না কাউকে। সবই স্বাভাবিক নিয়মে ও স্বাভাবিক গতিতে চলছে।
তবে, মন্ত্রীর কথায় কতটা আস্থা রাখতে পারছেন গণমাধ্যম কর্মীরা-এমন প্রশ্ন তুলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের চলমান আন্দোলনের কথা উল্লেখ করা হয়। বন্ধ গণমাধ্যম চালুর ব্যাপারে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয় প্রতিবেদনে।
ঢাকা, ২০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





