বাংলাদেশে বন্ধ হতে পারে কলকাতার দুই টেলিভিশন চ্যানেল জি বাংলা ও স্টার জলসা। সেই সঙ্গে আরও নিষিদ্ধ হতে পারে হিন্দি চ্যানেল স্টার প্লাস। আগামী আগস্ট মাসের প্রথম দশ দিনের মধ্যে চ্যানেলগুলোর ওপরে নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই গতকাল শনিবার ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে জরিপ আকারে তোলপাড় চলছে। তবে বেশিরভাগই মন্তব্যকারীই এসব চ্যানেল বন্ধ করার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। তবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘তিন চ্যানেল বন্ধে সরকারের কোনো নির্দেশ পাইনি।

জানা যায়, ভারতীয় এসব চ্যানেলের কারণে দেশে অপসংস্কৃতির চর্চা শুরু হয়েছে। বেড়ে গেছে তালাক ও পরকীয়ার মতো ঘটনাও। সেই সঙ্গে এসব চ্যানেলের প্রকোপে দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দর্শক সংকটে ভুগছে। ফলে চ্যানেল মালিকগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চ্যানেলগুলো বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল। এসবের সঙ্গে সম্প্রতি স্টার জলসা প্রচারিত ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিরিয়ালের মূল চরিত্রের নামে তৈরি ‘পাখি’ নামের পোশাক নিয়ে দুই কিশোরীর আত্মহত্যা ও এক দম্পতির তালাকের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নেতিবাচক মন্তব্য আসে। এসবের প্রেক্ষিতেই তথ্য মন্ত্রণালয় এ তিন চ্যানেল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্প্রচার বিনিময় চুক্তি নেই। আর ভারত আমাদের চ্যানেলগুলো প্রচার না করে, প্রমাণ দিয়েছে অবাধ তথ্যসম্ভারের এ যুগেও সবকিছু অবাধ নয়। সরকার যদি তাদের চ্যানেলগুলো নিষিদ্ধ করতে পারলে একজন সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে আমি একে স্বাগত জানাব। যেসব চ্যানেল নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে, সেগুলোর দুটি বাংলা ও অন্যটি হিন্দিতে প্রচারিত হয়। যা সহজেই এ দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আমাদেরকে প্রভাবিত করছে। এসব চ্যানেলের নাটকগুলো সব বয়সী মানুষের জন্য নয়। ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থার এ নাটকগুলো আমাদের সংস্কৃতি-কৃষ্টি-জীবনযাত্রাকে নষ্ট করছে বলে আমি মনে করি।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘পাখি’ জামা না কিনে দেয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে হালিমা খাতুন ও রাজধানীর গুলশানের শাহজাদপুরে কলেজ ছাত্রী জেরিন ইসলাম বৃষ্টি আত্মহত্যা করেন। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বাগেরহাটের এক স্বামী তার স্ত্রীকে পরে ‘পাখি’ ড্রেস কিনে দেয়ার আশ্বাস দিয়েও নিজের সংসার রক্ষা করতে পারেননি। এ ঘটনাগুলো এ চ্যানেলগুলো নিদ্ধিদ্ধের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুুল মুহিত ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে দেখা করে ভারতীয় চ্যানেলের অবাধ সম্প্রচার বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানায়। সে সময় মন্ত্রীদ্বয় বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে অ্যাটকোর সদস্যদের জানান।

এছাড়াও গত ১৫ জুলাই ভারতীয় এসব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের জন্য আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কাছে খোলা চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ভারতীয় টিভিগুলোর আগ্রাসনের কারণে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো লাভের মুখ দেখছে না। উল্টো বহুমুখী হয়রানির শিকার হচ্ছে। বাংলার আকাশ এখন মূলত ভারতীয় টিভির দখলে। বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় সংস্কৃতির কুপ্রভাব। পরিবারগুলো ভেঙে যাচ্ছে— সমাজের সর্বস্তরে শুরু হচ্ছে নৈতিক অধঃপতন। হু হু করে বাড়ছে হিন্দি স্টাইলে অপরাধ। মাদকের ব্যবহার ও বিকৃত যৌনাচার।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আপনি আপনার ক্ষমতা প্রয়োগ করুন এবং ভারতীয় টিভিগুলোর অশ্লীল সম্প্রচার বন্ধ করুন।’

ঢাকা, ২৭ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ