ঢাকায় নিখোঁজ মোহনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মুশফিকুর রহমানকে আহত অবস্থায় সুনামগঞ্জে গোবিন্দপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের গোবিন্দপুর এলাকার সড়কে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাকে সড়কের পাশে থাকা একটি মসজিদে নিয়ে যায়।
পরে এলাকাবাসী পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেয়।
হাসপাতালে মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘৩ আগস্ট গুলশান গোল চত্বরের একটি হোটেলে তার মামার সঙ্গে নাস্তা খান। এরপর মিরপুরে নিজের বাসায় যাওয়ার জন্য বাসে ওঠেন। কিন্তু বাসে ওঠার পর তিনি বুঝতে পারেন যে, বাসটি মিরপুরের নয়। এক পর্যায়ে বাসের লোকজন তার মুখে পানি জাতীয় কিছু স্প্রে করে। এরপর তিনি আর কিছু বলতে পারেননি।
জ্ঞান ফিরলে মুশফিক বুঝতে পারেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা তাকে অনেক মারপিট করেছে। মারপিটের একপর্যায়ে গুলি করে হত্যা করার হুমকি দেয়। পানি খেতে চাইলে অপহরণকারীরা তাকে পানি খেতে দেয়নি। গত কয়েক দিনে তাকে কেক ও পেয়ারা খেতে দেওয়া হয়েছে। ’
গত শনিবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন মুশফিক।
মুশফিককে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিন্নাতুল ইসলাম।
তিনি জানান, মসজিদের সামনে মুশফিককে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের খবর দেন মসজিদের ইমাম। স্থানীয়রা পকেটে পরিচয়পত্র দেখে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হয়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এসআই জিন্নাতুল আরও জানান, কে বা কারা মুশফিকুরকে ওই মসজিদের সামনে ফেলে যায়। তখন তার হুঁশ ছিল। তিনি মসজিদের লোকজনকে বলেন যে, তিনি খুবই ক্লান্ত। এ সময় তাঁকে খাবার দেওয়া হয়।
সেখান থেকে মোবাইল ফোনে বাড়িতেও কথা বলেছেন তিনি। তার শরীরের পোশাক ছেঁড়া দেখা গেছে। মারধর করার আলামতও রয়েছে শরীরে। সেখান থেকে পুলিশ তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে মামার সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে মুশফিকের খোঁজ মিলছিল না বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ওই রাতেই গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-১৯৪) করেন মুশফিকুরের মামা এজাবুল হক।
এএস





