দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) করা এক মামলাতেই জতীয়তাবাদী সমর্থিত ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের ২৮০ জন সদস্যের বহু প্রতীক্ষিত রাজধানীতে আবাসনের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে সমিতির সদস্যদের মাঝে উদ্ভেগ উতকন্ঠা ততই বাড়ছে।
কিস্তু এ সংকটের সমাধান কবে নাগাদ শেষ হবে তার সঠিক কোনো জবাব নেই সমিতির নেতাদের কাছেও। অনেক নিরীহ সদস্য গ্রামের জমি,স্ত্রীর গয়না এবং চড়া সুদের উপর ঋণ করে  রাজধানীতে একটি ফ্ল্যাট পাবার আশায় টাকা জমা দিয়েছেন। তাদের চোখে মুখে আজ হাসি নেই,এমনকি সুখের ঘুম নেই।
অথচ গত ৮ বছর আগে রাজধানীর পল্লবীতে সরকার খেকে বরাদ্দ পাওয়া সাত একর জমিতে  বহুতল ভবন নির্মাণ করা তো দূরের কথা এখনো এক মুঠো মাটি ফেলতে পারেননি সমিতির কর্মকর্তারা।
এদিকে আবার দুদকের পক্ষে থেকে জমি বরাদ্দের নানা অনিয়ম এবং ১ হাজার ৫৫২ কোটি ৫০ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাতের অভিযাগে সাবেক গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরসহ সরকারের ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় টাইমনিউজবিডি. কমকে জানান, ২০০৬ সালে  চারদলীয় জোট সরকার রাজধানীর পল্লবীতে ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের প্রায় ৭ একর বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই জমির বাজার মূল্য প্রায় ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা ।
ঢাকা সাংবাদিক সমিতিকে নামমাত্র মূল্যে  ওই জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন বিএনপি নেতা ও  সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির এবং সাবেক উপ-পরিচালক ভূমি সম্পদ ব্যবস্থাপক কর্তৃপক্ষ ও বর্তমান সদস্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ  মো. আজহারুল হক,জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কোষাধ্যক্ষ মনসুর আলম এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান।
গত ৬ মার্চ দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায়ের দায়ের করা শাহবাগ থানার মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরসহ সরকারের ওই তিন কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে।
এর আগে দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় গত বছর ২২ সেপ্টম্বর পাঠানো তলবি নোটিশ পাঠিয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরকে গত ২ অক্টোবর ডেকে এনে এক ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দুদকের ওই কর্মকর্তার পাশাপাশি ঢাকা সাংবাদিক সমিতির ২৮০ জন সদস্যের নামে দুদক এক এবং অভিন্ন বক্তব্যের নোটিশ পাঠালে। নোটিশে সমিতির সদস্য নম্বর,সদস্য হিসেবে প্লট/ ফ্ল্যাট পাবার জন্য যে অর্থ জমা দিয়েছেন, ওই অর্থের রশিদ এবং ওই অর্ধ বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সত্যায়িত ফটোকপি দাখিল করতে বলা হয়েছে।
গত বছর সেপ্টম্বর মাসে সমিতির ৩৫ জন নিরীহ সদস্য দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তার সঙ্গে দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য দিয়েছেন। পরে সমিতির কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত নিয়ে সব সদস্যের নামের তালিকাসহ কিছু কাগজপত্র দুদকে জমা দেয়।
এ বিষয়ে ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতির সভাপতি এম এ আজিজ টাইমনিউজবিড.কমকে বলেন,সরকারি নিয়ম নীতি মেনেই নির্ধারিত মূল্যে পল্লবীতে ৭ একর জমি ৯৯ বছরের জন্য তৎকালীন সরকার বরাদ্দ দিয়েছে।
তিনি বলেন,সমিতির সদস্যদের নামের খসড়া তালিকা প্রথমে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। তবে ওই তালিকায় সমিতির সব সদস্যের নাম ছিল। সরকার  থেকে ৭ একর জমি বরাদ্দ পাবার পরে সমিতির কর্মকর্তারা ২৮০ জন সদস্যের  কাছ থেকে  জনপ্রতি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাদেরকে সমিতির চুড়ান্ত সদস্য হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বরা হয়।
এমএ আজিজ বলেন,আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য ‘কনকর্ড গ্রুপের সঙ্গে সম্পাদিত  চুক্তির বিষয়য়ে দুদকের করার কিছু নেই। কারণ দুদক শুধুমাত্র ওই জমির বরাদ্দ প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং থানায় মামলা দায়ের করেছে। এই মামলা সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তিনি বলেন,সমিতির নামে বরাদ্দ পাওয়া পল্লবীর ওই্ জমিতে বর্তমানে ১০জন আনসার  পাহারায়  নিয়োজিত আছেন।
দুদকের চাহিদা মোতাবেক সমিতির পক্ষ থেকে ২৮০ জনের তালিকাসহ আনুসঙ্গিক কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এই সমিতিতে কোনো অসাংবাদিক নেই বলেও জানান তিনি।
[b]ঢাকা, একে, ৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]