বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক, রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি ৮৩ বছর বয়সে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় নির্মল সেনের বাড়িতে ‘নির্মল সেন স্মৃতি সংসদ’ স্মরণ সভার আয়োজন করেছে।

নির্মল সেন ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত ও মাতার নাম লাবন্য প্রভা সেনগুপ্ত। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নির্মল সেন ছিলেন পঞ্চম।

নির্মল সেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের মাধ্যমে। কলেজ জীবনে তিনি অনুশীলন সমিতির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আরএসপিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন তিনি শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে নির্মল সেনকে জীবনের অনেকটা সময় জেলে কাটাতে হয়েছে।

নির্মল সেন ১৯৫৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদানের মধ্যদিয়ে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। তার পর দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

লেখক হিসেবেও নির্মল সেনের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তার লেখা উল্লেখ যোগ্য বই হলো- পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ, মানুষ সমাজ রাষ্ট্র, বার্লিন থেকে মস্কো, মা জন্মভূমি, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই ও আমার জবানবন্দি।

২০০৩ সালে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠন তার চিকিৎসার জন্য সহায়তা করেন।

নির্মল সেনের ভাতিজা কংকন সেন জানান, নির্মল সেনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্মল সেন স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে তার প্রতিকৃতিতে মাল্য দান ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। 

এমএইচ