সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী যে ভাষায় সাংবাদিকদের আক্রমণ করেছেন তার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন দেশের সাংবাদিক সমাজ।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতি আলতাফ মাহমুদ ও কুদ্দুস আফ্রাদসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, যশোর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ এবং কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য সৈয়দ মহসিন আলী প্রতি আহবান জানান।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, সম্প্রতি সৈয়দ মহসিন আলী ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিক সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতি উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেই চলেছেন। সৈয়দ মহসিন আলীর উচ্চারিত শব্দাবলী, বক্তব্য এবং তার দেহের ভাষায় যার প্রকাশ ঘটেছে তা তার নিজস্ব শিক্ষা, রূচি, রাজনীতি ও পারিবারিক সংস্কৃতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, একজন মন্ত্রীর নীচু স্তরের এ ধরনের মানসিকতা এবং তার প্রকাশ গোটা সরকার ও মন্ত্রিসভার মর্যাদাকেই হেয় করে। এই মানের কোন মন্ত্রী যে কোনভাবেই সরকারের বা মন্ত্রিসভার মর্যাদা বৃদ্ধি করে না তা নিশ্চয়ই সরকারের শীর্ষ মহলও অনুধাবন করবেন। সাংবাদিক নেতারা সরকারের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই তার ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে- সৈয়দ মহসিন আলী তার বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রীই যে তাকে এবং অপর এক মন্ত্রীকে ‘চালিয়ে যেতে বলেছেন’- বলার মধ্য দিয়ে তার সাংবাদিক ও গণমাধ্যম বিরোধী অরূচিকর ও অশালীন আচরণের সঙ্গে প্রধামন্ত্রীর নামটিও জড়িয়ে ফেলছেন। এটি আমাদের সবার জন্যই ব্রিবতকর। আমরা নিশ্চিত, প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে যখন নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন ও বাস্তবায়ন করছেন, তখন তাঁর মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের আশালীন মন্তব্য ও অশোভন বক্তব্যের কারণে তিনি সেই সব শুভ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেবেন না। সাংবাদিক নেতারা সৈয়দ মহসিন আলী যেন সাংবাদিকদের কাছে দ্রুত ক্ষমা প্রার্থনা করে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেন সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের কোন কোন মন্ত্রী, এমপি বা নেতার কথাবার্তা ও কাজে এমনটি ধারণা করার সুযোগ রয়েছে যে, তারা সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়ে কোন বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করতে চান।
নেতারা বলেন, কোন সংবাদ মাধ্যমে কোন সংবাদ প্রকাশের কারণে কেউ ক্ষুব্ধ হলে তা’ নিরসনের বহু পথ খোলা আছে, সেই পথে না গিয়ে সৈয়দ মহসিন আলী যে ভাষায় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়েছেন তা সত্যিই উদ্বেগের।
সাংবাদিক নেতারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কুরুচিকর মানসিকতার মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী তার অশালীন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সিলেটবাসীকেও সম্পৃক্ত করার কথা বলেছেন।
সাংবাদিক নেতারা বলেন- আমরা নিশ্চিত, পূণ্যভূমি সিলেটের বিদগ্ধ নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষ এই মন্ত্রীর উস্কানিমূলক আহবান প্রত্যাখ্যান করে সিলেটের এবং সারাদেশের সাংবাদিক সমাজের পক্ষেই দাঁড়াবেন।
সৈয়দ মহসিন আলীকে ইতহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার আহবান জানিয়ে সাংবাদিক নেতারা বলেন, প্রবল ক্ষমতাধরদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই এ দেশের সাংবাদিক সমাজ তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিক নেতারা সৈয়দ মহসিন আলীকে তার কথা, আচরণ, শব্দপ্রয়োগ ও ব্যবহারে সংযত হওয়ার পরামর্শ দেন।
সাংবাদিকসমাজ এবং গণমাধ্যম যাতে তাদের মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন তেমন পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহবান জানান সাংবাদিক নেতারা।
বিবৃতিতে অন্যান্যদের মধ্যে সই করেন- চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা, যশোর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বিজ্ঞপ্তি।
ঢাকা, ১০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





