জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজ'র একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেছেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য অনুযায়ীই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) বিকেল তিনটার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে শওকত মাহমুদ এ মন্তব্য করেন। এ সময় সেখানে সাংবাদিক নেতা রুহুল আমীন গাজীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
শওকত মাহমুদ বলেন, নব্বইয়ে স্বেরাচার বিরোধী আান্দোলনের সময় এবং ১/১১ পরবর্তী দুই বছরে জরুরী শাসনামলের সংকটময় মুহুর্তে অনেক রাজনৈতিক নেতাদের প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেয়ার উদাহরণ রয়েছেন। এটা আমাদের গৌরবের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, গতকাল (সোমবার) মির্জা ফখরুল প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে বিএফইউজের আরেক অংশের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলসহ ওই অংশের সাংবাদিক নেতাদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য অনুযায়ী ফখরুলের প্রেসক্লাবে আশ্রয়ের বিষয়টি তখন তারা মেনে নেন এবং বলেন তিনি যতক্ষণ ইচ্ছা এখানে থাকতে পারেন।
শওকত মাহমুদ অভিযোগ করেন, হঠাৎ করেই বুলবুলসহ সাংবাদিকদের একটি গ্রুপ ফখরুলের প্রেসক্লাবে অবস্থানের বিরোধিতা করেন এবং প্রেসক্লাবে বহিরাগতদের দিয়ে হামলার হুমকি দেন। এটা খুবই অনাকাঙ্খিত এবং দু:খজনক।
তিনি বলেন, গতকাল (সোমবার) প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের একাংশের ফ্যাঁসিবাদ বিরোধী সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ করেই সেখানে মির্জা ফখরুল আসেন। তিনি সমাবেশে বক্তব্য শেষে বের হয়ে যাবার সময় মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের নামে ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল তরুনরা তার ওপর হামলা চালাতে চায়। পাশাপাশি তাকে ধরার জন্য বিপুল সংখ্যক পুলিশ প্রেসক্লাবের বাইরে অবস্থান নেয়। আর তখনই প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেন ফখরুল।
শওকত মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, গতকাল প্রায় একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলসহ সাংবাদিকদের একটি অংশ জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশ করছিল। সেখানে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বক্তব্য দিয়েছেন। হানিফের ওই বক্তব্য ছিল রাজনৈতিক হিংসা-বিদ্বেষ ও কুরুচিপূর্ণ।
গতকালের দুই সাংবাদিক জোটের সমাবেশ চলাকালে প্রেসক্লাবের গেটের বাইরে আওয়ামী লীগ নেতা মোফজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া উচ্ছৃঙ্খলাপূর্ণ বক্তব্য দেন ও সাংবাদিকদের হুমকী দেন বলেও অভিযোগ করেন শওকত মাহমুদ।
শওকত মাহমুদ বলেন, গতকাল মির্জা ফখরুল প্রেসক্লাবে থাকতে চাননি। তিনি বের হয়ে যাওয়ার সময় তার সাথে মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের নেতৃত্বে উচ্ছৃঙ্খল তরুনরা দুর্ব্যবহার করেন এবং তাকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন।
এমনকী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীনের নামে ছাত্রলীগ কর্মীরা লাঠিসোঠা নিয়ে প্রেসক্লাবের ভেতরে হামলা চালানোর স্পর্ধা দেখায় বলেও অভিযোগ করেন শওকত মাহমুদ। প্রেসক্লাবের ফটকে ওই উচ্ছৃঙ্খল তরুনরাই হামলা চালিয়ে নামফলক ভাংচুর করে।
শওকত মাহমুদ বলেন, মির্জা ফখরুল প্রেসক্লাবে অবস্থানকালে সেখানে কোন অসাংবাদিক ছিল না। প্রেসক্লাবে সাংবাদিকরাই ছিল।
কেবি





