দেশের মানুষের উপর চেপে বসা স্বৈরাচারকে হটিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে, দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে, সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক নেতারা।
সাংবাদিক নেতারা বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের সাথে একমত পোষণ করে আবারও জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এছাড়া জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আওয়ামী লীগ ও সরকারকে মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এর দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় তারা এই মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ ফেড়ারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, এই স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই জাতির বিবেক সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের টুটি চেপে ধরেছে। এই সরকার গণতন্ত্র হত্যাকারী, মানবাধিকার ধ্বংশকারী। যদি সাংবাদিক সমাজ ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা চান তাহলে এই অবৈধ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, আওয়ামী প্রশাসন যখন এই জাতীয় প্রেসক্লাব ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করেছিল তখন সাংবাদিকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমান। আওয়ামী হায়েনা সরকার যখন দেশের সবকটি গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিল তা আবার পুণরায় চালু করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সাংবাদিক সমাজের অধিকার বারবার হরণ করেছে এই আওয়ামী লীগ। এরা যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই সাংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর জুলুম নির্যাতন করেছে। এদের আমলে বারবার সংবাদ ধ্বংসের সম্মুখীন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কথায় 'মদিনা সনদ অনুসারে দেশ চলছে' এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে সর্বনিম্ন সাজা ৭ বছর কারাদন্ড দেওয়া হবে, আল্লাহ ও রাসুল (স:) কে অপমান করলে তাকে শাহাবাগে নিয়ে গিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে সুপার স্টার বানানো হবে, শেখ মুজিবকে জাতির পিতা না মানলে তাকে গুম করা হবে, দূর্নীতির সংবাদ চাপা হলে সেই সাংবাদিকদের জেলে যেতে হবে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরেছে আওয়ামী পেশি শক্তি। এদেরকে হটাতে না পারলে বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে না। আর তাই এদেরকে ক্ষমতা থেকে হটানো এখন একমাত্র দাবী দেশের জনগণের।
অনুষ্ঠানে চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, দিনাজপুর, বগুড়া, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাউন্সিলে আসা সাংবাদিকরা নিজ নিজ এলাকায় সাংবাদিক নির্যাতনে কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ও বেগম সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিমউদ্দিন আলম, ঢাবির সাবেক ভিসি প্রফেসর ড.এমাজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
[b]ঢাকা, এমএইচ, ২৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]