ঢাকা: রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়েছে সাংবাদিক নেতারা।
এ সময়ের মধ্যে হামলাকারী আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার ও তাদের শাস্তি না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুমকি দিয়েছেন তারা।
রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক নেতারা এ ঘোষণা দেন।
হামলাকারিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রহুল আমিন গাজী বলেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নেতৃত্বে সরকার সমর্থকরা জয়বাংলা শ্লোগাণ দিয়ে সাংবাদিকদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় প্রায় ৪০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছে।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা আমাদের উপর হামলা চালায় থেমে থেমে চার বার হামলা করা হয়েছে। আমাদের সমাবেশের মঞ্চ মাইক জেনারেটরসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে।
তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলার সময় ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হান্নানকে দেখা গেছে। হামলার সময় পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকলেও তার নিরবতা পালন করেছে। এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, আমরা প্রেসক্লাবে ঢোকার সময় সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নোমান প্রেসক্লাবের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন,জাতীয় চোরদেরকে আইডিকার্ড দেখিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হবে। আমরা অতিসত্তর এ এসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল সকাল ১১টায় একই স্থানে একই ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হবে এবং হামলাকারীরা এর মধ্যে গ্রেফতার না হলে ওই সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ বলেন, নাশকতার আশঙ্কায় নাশকতা করছে আওয়ামী লীগ। এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র। সরকার সমর্থকরা সাংবাদিকদের উপর পরিকল্পিত ভাবে এ হামলা চালিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি কাবি আব্দুল হাই শিকদার,সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ।