প্রবীণ সাংবাদকি  ও  কথা সাহিত্যিক রাহাত খানের৭৫তম জন্মদিন আগামীকাল ১৯ ডিসেম্বর  । ১৯৪০ সালের এদিনে তিনি কিশোরগঞ্জের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ১৯৬৯ সালে তিনি প্রত্যক্ষভাবে সাংবাদকিতায় চলে আসনে। দৈনিক ইত্তেফাকের অ্যাসিস্টেন্ট এডিটর হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করনে। ছলিনে পত্রকিাটরি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়  দৈনিক বর্তমান।

জানা যায়, ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি নিয়েই যোগ দেন শিক্ষকতার মহান পেশায়। তিনি ময়মনসিংহ জেলার নাসিরাবাদ কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন।

সাংবাদকিতার মতো গুরু দায়িত্ব পালনের একইসঙ্গে শুরু করেন লেখালেখি। শহর, বন্দর ও গ্রামের মানুষদের জীবন চিত্র নিয়ে লিখতে থাকেন একের পর এক কলাম, গল্প, উপন্যাস। অতি অল্পসময়েই তিনি গণমানুষের হ্রদয়ে স্থান করে নেন। পরিচিত পান জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হিসেবে। তার লেখা, গল্প উপন্যাসে দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনের কথা উঠে আসে। তিনি ৫০টিরও   বেশি গল্প উপন্যাস রচনা করেন। লিখেন মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর একাধিক গানও।

তিনি যখন মাত্র তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র, তখন থেকেই গল্প লেখা শুরু করেন। একদিন কচ্ছপকে ঘুড়ির আঘাত পেতে দেখে তিনি অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন আর এটা নিয়েই তিনি লিখে ফেলেন তাঁর প্রথম গল্প। ১৯৭২ সালে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘অনিশ্চিত লোকালয়’ বের হয়। এরপর বের হয় ‘অন্তহীন যাত্রা ‘ভালো মন্দের টাকা ‘আপেল সংবাদ ইত্যাদি। শিশুদের জন্যও তিনি লিখেছেন। তাঁর লেখা ‘দিলুর গল্প’ আজও শিশুদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়। আশির দশকের শুরুর দিকে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘অমল ধবল চাকরি’ বের হয়। মোট ৩২টির বেশি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘এক প্রিয়দর্শিনী, ‘ছায়াদম্পতি ‘হে সুনীতি ‘সংঘর্ষ‘শহর‘হে অনন্তের পাখি, ‘মধ্যমাঠেরটবলার‘আকাঙ্ক্ষা’কয়েকজনএবং ‘অগ্নিদাহ।

প্রবীন সাংবাদিক রাহাত খান ঢাকাবাসীর জীবন যাপনের ওপর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন বিভিন্ন উপন্যাসে। মূলত মধ্যবিত্ত আর উচ্চমধ্যবিত্তের জীবন, অপ্রকাশিত সুখ-দু:খ, শহুরে মানুষের অস্থিরতা, হতাশা ইত্যাদি স্থান পেয়েছে তাঁর উপন্যাসে।

কথা সাহিত্যিক রাহাত খান সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৬ সালে জাতীয় ভাবে ‘একুশে পদক পুরষ্কারে ভূষিত হন। এছাড়া ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুুরষ্কার, ১৯৭৯ সালে সূফি মোতাহার হোসেন অ্যাওয়ার্ড, মাহবুবুল্লাহ জেবুন্নেসা ট্রাস্ট অ্যাওয়ার্ড, আবুল মনসুর মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড, ১৯৮২ সালে হুমায়ুন কাদের মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড, সুহ্রদ সাহিত্য অ্যাওয়ার্ড, ট্রাই সাহিত্য অ্যাওয়ার্ড, চেতনা সাহিত্য অ্যাওয়ার্ড পান।

একে