চৌদ্দগ্রামের বাগৈ গ্রামে বখতিয়ার বাড়ী মসজিদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, দৈনিক সংগ্রামের সহকারী সম্পাদক মাওলানা জুলফিকার আহমদ কিসমতি।

গতকাল সোমবার ৪ দফা নামাজে জানাযা শেষে বেলা ৩টার দিকে তাকে দাফন করা হয়। প্রতিটি নামাজে জানাযায়ই বিপুল সংখ্যক মুসল্লি, মরহুমের ছাত্র, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবগ উপস্থিত ছিলেন।

মাওলানা কিসমতির প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় গতকাল সকাল ৭টায় মিরপুরস্থ সাংবাদিক আবাসিক এলাকায়।

নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিযানুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ, নগর সম্পাদক শেখ এনামুল হক, সহকারী বার্তা সম্পাদক সাদাত হোসাইন, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল আউয়াল ঠাকুর, নুরুল হুদা প্রমুখ।

মাওলানা কিসমতির দ্বিতীয় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ভূলইন ইউনিয়নের কিসমতচলুন্ডায় তার জন্মস্থানে।

তৃতীয় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় দুপুর সোয়া ১টায় চৌদ্দগ্রামের কাসিনগর ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা মাঠে। নামাজের ইমামতি করেন মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল, মরহুমের ছাত্র মাওলানা মুনায়েম খান।

সর্বশেষ নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় চৌদ্দগ্রামের ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নের বাগৈ গ্রামে বখতিয়ার বাড়ী মসজিদ প্রাঙ্গনে।

নামাজে ইমামতি করেন জিরি পটিয়া মাদরাসার জেষ্ঠ মুহাদ্দিস মাওলানা লুৎফর রহমান খোকন। মসজিদের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

প্রতিটি নামাজে জানাযায়ই বিপুল সংখ্যক মুসল্লি, মরহুমের ছাত্র, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবগ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অনেকে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। প্রতিটি জানাযা নামাজের পূর্বে মরহুমের জীবনী নিয়ে বক্তব্য রাখেন তার জেষ্ঠ্য সন্তান মুসলেহ উদ্দিন সাদী।

নামাজে জানাযায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সফুয়া সিনিয়র মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা শহীদুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, মাওলানা নুরুজ্জামান, মাওলানা আবদুল কাদের ধর্মপুর, কাশিনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আয়াতুল্লাহ নূরী, চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল হক, স্থানীয় ইমাম মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ প্রমুখ।

শুক্রবার দোয়া মাহফিল

আগামী শুক্রবার পহেলা জানুয়ারী বাদ জুমা মরহুমের পিত্রালয় বাগৈ গ্রামে বখতিয়ার বাড়ীতে অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তিকাল করেন মাওলানা জুলফিকার আহমদ কিসমতি।

তিনি দীর্ঘ দিন ডায়াবেটিক ও কিডনীজনিত সমস্যা ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ৩ কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

মাওলানা কিসমতি ১৯৩৫ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কিসমত গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা মরহুম সেকান্দর আলী, মাতা মরহুমা জামিলা খাতুন।

এসএইচ