বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির সাভার প্রতিনিধি মিঠুন সরকারকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
দু'টি পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিকে ‘তুলে নেওয়ার’ হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে কর্মরত অর্ধশত সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘একাত্তর টিভির সাভার প্রতিনিধি যাতে আপাতত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি আমি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে বিষয়টি জানাবো।’
সাংবাদিকরা লিখিত অভিযোগে জানান, গত ৮ জুন রাতে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর হাতে মারধরের শিকার হন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম। এর প্রতিবাদে পরদিন ৯ জুন সকালে মানববন্ধন করে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। এতে সংহতি জানায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদিক সমিতি ও ছাত্র ইউনিয়ন।
কিন্তু অনুষ্ঠিত মানববন্ধনটিকে একাত্তর টিভির সাভার প্রতিনিধি মিঠুন সরকার সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেন। ৯ জুন একাত্তর টিভিতে প্রচারিত সংবাদে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত ৪ জুন নির্বাচনের দিন খ্রিস্টান পল্লীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ এবং জাবি প্রেস ক্লাব মানববন্ধন করেছে।’
উল্লেখ্য, ৪ জুনের ঘটনায় মিঠুন সরকার নিজে মারধরের শিকার হয়েছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একাত্তর টিভিতে প্রচারিত ওই সংবাদের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় মিঠুন সরকার ১১ জুন রাতে দৈনিক প্রথম আলোর জাবি প্রতিনিধি রাসেল রাব্বী ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জাবি প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম সীমান্তকে মুঠোফোনে গালাগাল করেন এবং তুলে নেওয়ার হুমকি দেন।
এছাড়াও তিনি ওই দুজনের বিরুদ্ধে সচিত্র মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেন। এর কিছুক্ষণ পরই মিঠুন সরকার তার একাধিক ফেসবুক পেজে প্রথম আলোর প্রতিনিধি রাসেল রাব্বীর ছবিসহ মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করে স্ট্যাটাস দেন।
লিখিত অভিযোগে সাংবাদিকরা মিঠুন সরকারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণাসহ ৪ টি দাবি জানান।
এমআইএস





