ট্রেন কর্তৃপক্ষের খাম-খেয়ালিপনায় গুরুতর আহত হয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক মঞ্জুর মোরশেদ খান রিয়েন।
জানা গেছে, ট্রেনের পরিচালক কমপার্টমেন্ট প্লাটফরমের বাহিরে দাড় করায়। এ সময় কর্তব্যরত পরিচালককে তার শারীরিক অক্ষমতার কথা জানিয়ে কমপার্টমেন্ট দুটি প্লাটফরমে নিতে অনুরোধ জানান। বার বার অনুরোধ সত্বেও কমপার্টমেন্ট প্লাটফরমে না আনায় বাধ্য হয়েই ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে মেরুদন্ডে গুরুত্বর আঘাতপ্রাপ্ত হন রিয়েন (আগেই তার একটি অপারেশন করা হয়েছিল)।
আহত এই সাংবাদিক জানান, ঘটনার পর ১১ অক্টোবর থেকে অধ্যাপক ডাঃ এম এ সামাদ ও অধ্যাপক ডাঃ আবু সাইদ এর অধীনে শমরিতা হাসপাতাল চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা ব্যায়বহুল হওয়ায় তিনি সেচ্ছায় রিলিজ নিয়ে বাসায় চলে আসেন।
চিকিৎসকরা বলেছেন, আহত এই গণমাধ্যমকর্মীর মেরুদন্ডের একটি হাড় মারাত্বক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। যা জরুরী ভিত্তিতে অপারেশন করা প্রয়োজন।
মঞ্জুর মোরশেদ খান রিয়েন টাইমনিউজবিডিকে জানান, গ্রামের বাড়ি পাবনার ঈশ্বরদীপূর্বটেংরী (আমবাগান) পরিবার পরিজনের সাথে ঈদ-উল-আযহা পালন শেষে নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসতে ৪ অক্টোবর অনলাইনে রাজশাহী - ঢাকা ৭৬০ আন্তঃনগর পদ্মা এক্রাপ্রেস ট্রেনের এ/সি সিটের ২টা টিকেট কিনেন। যার যাত্রার তারিখ ছিল ১০ অক্টোবর বিকাল সোয়া ৫টা। যাত্রার জন্য শুক্রবার রিয়েন তার স্ত্রী ডাঃ রুমানা আহম্মেদকে নিয়ে ঈশ্বরদী বাইপাস রেলষ্টেশনে আসেন।
এসময় তার বাবা মাহবুব মোরশেদ খান জেম ও মা সাকীয়া মোরশেদ খানও তাদের সঙ্গে আসেন।
কিন্তু রাজশাহী হতে নির্দ্ধারিত সময়ে ছেড়ে না আসায় ট্র্রেনটি আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় ঈশ্বরদী বাইপাস ষ্টেশনে আসে।
উক্ত পদ্মা ট্রেনটি ট্রেনের পরিচালক এ/সি সিট, এ/সি চেয়ারসহ মোট তিনটি কমপার্টমেন্ট ইচ্ছাকৃত ভাবেই প্লাটফরমের বাহিরে মাঠের মধ্যে দাড় করায়। সে অবস্থায় তিনি ছাড়াও অনেকে শিশু বৃদ্ধ ও মহিলা যাত্রী বেকায়দায় পড়েন।
শুধু তাই নয় এ/সি দুটি কমপার্টমেন্টে উঠার জন্য মূলত চারটি দরজা থাকলেও মাঠের মধ্যে কেবলমাত্র একটি দরজা খোলা রাখা হয়। এ সময় কর্তব্যরত পরিচালককে তার শারীরিক অক্ষমতার কথা জানিয়ে কমপার্টমেন্ট দুটি প্লাটফরমে নিতে অনুরোধ করেন।
অনুরোধ না শুনলে আবারও তাকে তার ওয়াকি-টকি দিয়ে ট্রেনের চালকের সাথে যোগাযোগ করে কমপার্টমেন্ট দুটি প্লাটফরমে নিয়ে সবাইকে ট্রেনে উঠতে সহযোগীতা করতে বলেন। কিন্তু প্রতি উত্তরে পরিচালক সাহেব এই সাংবাদিককে বলেন, 'উঠতে পারলে উঠুন, না উঠলে আমি ট্রেন ছেড়ে দিব'।
একপর্যায়ে উপায় না পেয়ে তার বাবা তাকে মানবীক খাতিরে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি আবারও অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
সেই অবস্থায় বাধ্য হয়ে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে মেরুদন্ডে গুরুত্বর আঘাতপ্রাপ্ত হন মঞ্জুর রিয়েন ( আগেই তার একটি অপারেশন করা হয়েছিল)।
এমন অবস্থায় আনুমানিক রাত ১২টায় শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি ঢাকা বিমানবন্দর ষ্টেশনে পৌছান। এ সময় পরিচিতজনদের সহায়তায় স্কয়ার হসপিটালের জরুরী বিভাগে আসেন। সেখানে চিকিৎসকরা জরুরী ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।
পরে ১১ অক্টোবর থেকে শমরিতা হাসপাতাল চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা ব্যায়বহুল হওয়ায় তিনি সেচ্ছায় রিলিজ নিয়ে বাসায় চলে আসেন।
চিকিৎসকরা বলেছেন, তার মেরুদন্ডের একটি হাড় মারাত্বক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। যা জরুরী ভিত্তিতে অপারেশন করা প্রয়োজন।

এমনিতেই গত ৮ দিনে অনেক টাকা ব্যায় হয়ে গেছে। এ মুহূর্তে আরো অনেক টাকার প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন সক্রিয় এ গণমাধ্যমকর্মী।
এ বিষয়ে মঞ্জুর মোরশেদ খান রিয়েন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে ক্ষতিপূরন চেয়ে একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন।
বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে বিবেচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ তার অপারেশনের ব্যায়ভার বহন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রেলের মহাপরিচালকের নিকট অনুরোধ করেছেন তিনি।
এছাড়া সাংবাদিক মঞ্জুর মোরশেদ খান রিয়েন পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন।
জেএ





