দেশব্যাপী সাংবাদিক নির্যাতন,মামলা,গ্রেফতার এবং গণমাধ্যমের গাড়িতে হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন।

শনিবার এক বিবৃতিতে ইউনিয়নের সকল সদস্যদের পক্ষে সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক ও সেক্রেটারি সরকার মাজহারুল মান্নান বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, সাম্প্রতিককালে রাজধানীতে দেশটিভি, ভোরের কাগজ, একাত্তর টিভিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের গাড়িতে হামলা ও সাংবাদিকদের ওপর বোমা হামলা, ফেনিতে দৈনিক ফেনি সময়ের সহ সম্পাদক রাশেদুল হাসানের হাত পা ভেঙ্গে দেয়া, লালমনিরহাটের জনকণ্ঠ প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম শাহীনকে গলাকেটে হত্যা চেষ্টা, কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে মানবজমিন প্রতিনিধি রফিকুল ইসলামের গায়ে মদ ঢেলে লাঞ্ছিত করা, বিজয় টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আল এনায়েত রনির ওপর সন্ত্রাসী হামলা, রংপুরের কাউনিয়া যায় যায় দিন প্রতিনিধি মিজানুর রহমান মিটুলকে হুমকি এবং দৈনিক যুগান্তরের রাজশাহী ব্যুরো চিফ সিনিয়র সাংবাদিক আনু মোস্তফাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নাশকতার তিনটি মামলায় জড়ানো, একুশে টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক কনক সরোয়ার এবং দৈনিক নয়া দিগন্তের রংপুরের পীরগাছা প্রতিনিধি গোলাম আযমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সবকটি ঘটনার পূর্বাপর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সবকটি ঘটনাই উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এর মাধ্যমে সাংবাদিক দলন, নিপীড়ন এবং হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে একটি অতি উৎসাহী পক্ষ। এসব ঘটনায় প্রতিয়মান হয় গণমাধ্যম কর্মী, তাদের যানবাহন এবং তাদের অফিস, স্থাপনা ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। যা বাংলাদেশের বিকাশমান গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরুপ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার মিডিয়া বান্ধব সরকার। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় অবিলম্বে এসব ঘটনায় দোষিদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।

পাশাপাশি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে গণমাধ্যম কর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করে দেয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। একই সঙ্গে সারাদেশের সকল পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

ইআর