নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদে সংবাদকর্মীদের গ্র্যাচুয়িটি ও বাড়ি ভাড়া কমিয়ে দেওয়া, আয়কর সুবিধা বাতিলসহ বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিলোপ এবং সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব এর মনগড়া ও ঠুনকো যুক্তিনির্ভর বিবৃতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের ডাকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকাসহ সারাদেশে সাংবাদিকদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদের গেজেট প্রকাশের পর সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব-এর প্রদত্ত বিবৃতিকে অবিবেচনাপ্রসূত ও ঠুনকোযুক্তিনির্ভর হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, সংবাদপত্র মালিকরা সংবাদকর্মীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর প্রয়াস চালিয়েছেন যা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। মালিক ও সংবাদকর্মীদের মধ্যকার বিরোধের সুযোগ নিয়ে সরকার দু’পক্ষের ন্যায়সংগত অধিকার খর্ব করছে।

ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও ডিইউজে সহসভাপতি শাহীন হাসনাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, বিএফইউজে সহসভাপতি নুরুল আমিন রোকন ও মোদাব্বের হোসেন, সহকারী মহাসচিব আহমদ মতিউর রহমান, ডিআরইউ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এ কে এম মহসিন, সাংবাদিক নেতা আবুল কালাম মানিক প্রমুখ। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল তোপখানা রোড প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাব চত্ত¡রে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে সাংবাদিকরা ‘ভাওতাবাজির ওয়েজবোর্ড-মানিনা, মানবো না’, ‘প্রতারণার ওয়েজবোর্ড-মানিনা, মানবো না’, ‘সাংবাদিকদের স্বার্থবিরোধী ওয়েজবোর্ড বাতিল কর-করতে হবে’ইত্যাদি স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করেন।

মিছিলপূর্ব সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সাংবাদিকদের বেতন স্কেলের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামোর তুলনার সময় নোয়াব নেতারা ভুলে গেছেন যে একজন সরকারি কর্মকর্তা বেতন ছাড়াও জ্বালানিসহ গাড়ি, সরকারি বাড়ি, নামমাত্র সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ, ফ্রি মোবাইল, আজীবন পেনশন, বিশেষ পাসপোর্টসহ ভিসামুক্ত বিদেশ ভ্রমণ এমনকি চাকর, বাবুর্চি, মালি থেকে শুরু করে অঢেল সুবিধা পান। সরকারি কর্মকর্তারা সপ্তাহে দুদিনসহ বছরজুড়ে প্রায় ৪ মাস ছুটি ভোগ করলেও সাংবাদিকদের সাপ্তাহিক ছুটি একদিন এবং বার্ষিক ছুটি হাতেগোনা কয়েক দিন। সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মঘণ্টা ৮। বিপরীতে সাংবাদিকদের কর্মঘন্টা অনির্ধরিত, বাস্তবে ২৪ ঘন্টা। কারণ একজন সাংবাদিকের কর্মপরিধির মধ্যে যে কোন ঘটনা ঘটলে রাতগভীরেও তাকে সংবাদ সংগ্রহে থাকতে হয়, সবসময় সজাগ থাকতে হয়।  

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সংবাদত্র শিল্পে বিদ্যমান বৈরী সময় এবং বিজ্ঞাপন ও নিউজপ্রিন্টের ক্ষেত্রে নোয়াবের দাবিকৃত ন্যায্য সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সহমত পোষন করে বলেন, নবম ওয়েজবার্ড রোয়েদাদে সাংবাদিকদের বেতন ৮০ শতাংশ যেমন বেড়েছে তেমনি গত ৫ বছরে শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের বেসরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহারও প্রায় সমহারে বেড়েছে। নোয়াব নেতাদের সংবাদপত্রে সরকারি বিজ্ঞাপনের পরিমানও চোখে পড়ার মত। এছাড়া সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রভাব খাটিয়ে কর্পোরেট গ্রুপের অন্যান্য ব্যবসায়িক সুবিধা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য-উপাত্ত সংবাদকর্মীদের অজানা নয়।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদের গেজেট বাতিল করে গ্র্যাচুয়িটি, বাড়ি ভাড়া ও আয়করের আগের বিধান পুনর্বহালের দাবি জানান। এ দাবি আদায়ে সারাদেশে বিএফইউজের অঙ্গ ইউনিয়নে কেন্দ্রীয়   নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে সমাবেশ এবং ঢাকায় প্রতিটি সংবাদপত্র ইউনিটে সমাবেশের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ঢাকার বাইরে বিক্ষোভ  

ঢাকার বাইরে বিএফইউজে’র সকল অঙ্গ ইউনিয়ন আজ একই সময়ে কেন্দ্রঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে), রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে), মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন-খুলনা (এমইউজে-খুলনা), সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর  (জেইউজে), সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া (জেইউবি), সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার ( জেইউসি), কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিজেইউ), সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুর (জেইউডি), সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহ  (জেইউএম), সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুর (জেইউজি) এবং কুষ্টিয়া জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেজেডইউজে) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করে।

এমবি