কোন ধরণের দু:খ কষ্ট বেবী মওদুদকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সাংবাদিক নেতা আব্দুস সোবহান।

মঙ্গলবার প্রেসক্লাবে বেবী মওদুদের মৃত্যুবার্ষীকি উপলক্ষে আয়োজিত স্বরণ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)'র উদ্যোগে আয়োজন করা হয় স্বরণ সভা। সকাল ১১টায় সভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় সভার কার্যক্রম শুরু হয় সোয়া ১২টায়।

ডিইউজে একাংশের সভাপতি শাবান মাহমুদের সভাপতিত্বে বেবী মওদুদের প্রতি শ্রদ্ধ জ্ঞাপন ও বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ক্লাবের কোষাদক্ষ শ্রী কার্তিক চেটার্জি, কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য শাহনাজ বেগম। বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজে মহাসচিব উমর ফারুক, সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভুঁইয়া, কার্যকরি কমিটির সদস্য মফিদা আকতার, ডিইউজের সাবেক সভাপতি সফিকুল করিম সাবু, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা মিনু, ডিইউজে নেতা মাহমুদুর রহমান খোকন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী।

বক্তারা বলেন, বেবী মওদুদ অত্যান্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা একজন বিচারপতি ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে যোগ দান করেন। নাম লেখান ছাত্ররাজনীতিতেও। ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী হিসেবে ক্যাম্পাসে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সাংবাদিকতায় যাত্রা শুরু করেন সাপ্তাহিক ললনা পত্রিকা দিয়ে। পরে তিনি দৈনিক সংবাদের সাথে যুক্ত হন। এর পর থেকে তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পরে তিনি চিত্রালী, মুক্তকণ্ঠ, ইত্তেফাকে কাজ করেন।বিএসএস এর প্রধান বার্তা সম্পাদক ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেন পেশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই সাংবাদিক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিডি নিউজের সামাজিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে তিনি সাংবাদিক হাসান আলিকে বিয়ে করেন। দু সন্তান জন্মের পর তার স্বামী মারা যান। তার ভাইয়েরা বাবার বাড়িতে চলে যেতে বললেও বেবী যাননি। শুধু তাই নয়, বাবার বাড়ি থেকে কোন সহযোগীতাও তিনি নেননি। নিজে নিজে কষ্ট করেছেন। কউকে বলেন নি।

আব্দুস সোবহান বলেন, বেবী মওদুদ নারীদের জন্য আন্দোলন করেছেন, মহিলা পরিষদে যুক্ত ছিলেন। পারিবারিক ভাবে অনেক দু:খ কষ্ট ভোগ করেছেন। কিন্তু কোন দু:খ কষ্টই তাকে আদর্শ থেকে এক চুলও নাড়াতে পারেনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার বন্ধুত্ব ছিল। কিন্তু কোন দিন নিজের কথা বলে কোন সুবিধা আদায় করেননি।

সোবহান বলেন, বেবী মওদুদের জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে আদর্শের উপর অবিচল থাকার বিষয়ে ইস্পাত কঠিন হতে হবে। কোন ধরনের বিতর্ক না করে ঐক্যবধ্যভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তারা সকলে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে বেবী মওদুদের পছন্দ অনুযায়ী সকলের জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করেন ডিইউজে।

জারিফ