তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে নি:শর্ত মুক্তি না দেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিকরা।

মঙ্গলবারের (১৮ আগস্ট) মধ্যে তাকে নি:শর্ত মুক্তি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামও দিয়েছেন তারা। তা না হলে মঙ্গলবার বেলা বারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাবেশ করে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান সাংবাদিক নেতারা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ আয়োজিত এ সমাবেশে যোগ দেন অপর অংশও। পরে 'বিক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজ' ব্যানারে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে প্রবীর সিকদারকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা থেকে সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে তাকে স্থানীয় আদালতে হাজির করা হচ্ছে।

প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের স্ত্রী অনিতা সিকদার এবং দুই ছেলে সুপ্রিয় সিকদার ও পুলক সিকদার।

এছাড়া সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক কামাল পাশা চৌধুরী, বাপ্পাদিত্য বসু, মাহমুদুল হক মুন্সি বাধন প্রমুখ।

ডিইউজের একাংশের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদের নেতৃত্বে সমাবেশ শুরুর পর পরই অপর অংশের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা যোগ দেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আশিস কুমার দে, সাগর লোহানী, অমিয় ঘটক পুলক প্রমুখ।

প্রবীর সিকদার নিউজপোর্টাল উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ এবং বাংলা দৈনিক বাংলা ৭১ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক।

রাজধানীর ইন্দিরা রোডে পত্রিকা দু’টির কার্যালয় থেকে তাকে রোববার রাতে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে বিকেলে তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় ওই মামলাটি দায়ের করেন ফরিদপুরের আওয়ামী লীগ নেতা এপিপি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার পাল।

সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে রোববার রাতে বিনা নোটিশে তার পত্রিকার কার্যালয় থেকে পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও ব্যাখ্যা না পেয়ে রাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিইউজে। সঙ্গে সঙ্গে সোমবারের প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় সংগঠনটি।

রোববার রাতে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহবান জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ।

তিনি ওই পোস্টে লেখেন, রোববার দিবাগত রাতের মধ্যে প্রবীর সিকদারকে সসম্মানে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া না হলে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) বাধ্য হবে তার মুক্তির দাবিতে বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি দিতে।

এমকে