রাজনৈতিক আগুনে জ্বলছে গোটা দেশ। জননিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা আর শংকা গোটা জাতিকে গ্রাস করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএফইউজের মহাসচিব এম এ আজিজ। ফলে গণতন্ত্র এবং সুশাসন আজ নির্বাসনে।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) ’দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ চরম সংকটকাল অতিক্রম করছে। আর এ সংকট থেকে উত্তরণের এক মাত্র উপায় গঠন মূলক সংলাপ।
জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই এ সংকট থেকে রক্ষার উপায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএফইউজের সহ সভাপতি এম আবদুল্লাহ,ডিইউজের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ষৈয়দ আবদাল আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক কাদের গনি, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, ডিইউজের সাবেক সভাপতি আবদুস শহিদ, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একে এম মহসিন,সাধারণ সম্পাদক মীর আহমেদ মীরু প্রমুখ।
বিএফইউজের মহাসচিব এম এ আজিজ বলেন , সরকারের কতিপয় মন্ত্রীর কারণেই দেশে রাজনৈতিবক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। টানা ২৬ দিনের অবরোধে রাজনৈতিক সংঘাতে প্রায় ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন,শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্পদায় এবং দেশের বিভিন্ন মহল থেকে আহবান জানানো হয়েছে। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে নিরব।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দ্যেশ করে বলেন, ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে দেশকে বাচাঁন। এভাবে নির্বিচারে বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের হত্যার আর গুম করে রেহাই পাওয়া যাবে না।
বিএফইউজের মহাসচিব এম এ আজিজ বলেন, সরকার হত্যা,গুম,গ্রেফতার আর ক্রস ফায়ারের মাধ্যমে ক্ষমতায় খাবতে চায়। সরকারের কারণে রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনিভুত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের অফিসের বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং ডিশ লাইন বিচ্ছিন্ন করেছে। এছাড়া পানি এবং গ্রাসের লাইন বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেয়া হচ্ছে।
এম এ আজিজ বলেন, গতকাল নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান হুমকি দিয়েছেলেন বেগম জিয়ার অফিসের বিদ্যুৎ,পানি,গাস লাইন বিচ্ছিন্ন করার। তার হুমকির পরই আজ বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধী আড়াল করার জন্যই বিএফইউজের সভাপতি ও মেধাবী সাংবাদিক শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে বাস পোড়ানো এবং বিস্ফোরক আইনের পরপর ৪ টি মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে গনতন্ত্র না থাকলে সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা থাকে না।
ডিইউজের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি পদত্যাগ করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করলেই সংকট কেটে যাবে।
তিনি বলেন, সরকার হিটলারী এবং হালাকু খানের কায়দায় হত্যা ও গুমের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খুনের দায়িত্ব নিয়েছে। পুলিশের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যা যা করা দরকার সব করুন দায়ীত্ব তার।
একে/এসএইচ





