সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক খুলে দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে এ তথ্য জানান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এই ঘোষণার পরপরই ফেসবুকে ঢোকার চেষ্টা করলে তা খোলা পাওয়া যায়।

সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এইমাত্র সরকারের আদেশ পেয়েছি। আমি বিটিআরসিকে এখনই নির্দেশ দিচ্ছি, ফেসবুক খুলে দেওয়ার জন্য। তবে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার ও ম্যাসেঞ্জার জননিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ থাকবে।

তারানা হালিম আরও বলেন, আমি তরুণ ও যুব সমাজকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কারণ তাদের সবচেয়ে প্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সাময়িক বন্ধ রাখার বিষয়ে তারা সরকারকে সহযোগিতা করেছে।

তিনি বলেন, ফেসবুক বন্ধ রাখার কারণে অনেকেই আমাকে তিরস্কার করেছে। কিন্তু তারাও ফেসবুক বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সহযোগিতা করেছে। এ সহযোগিতার জন্য সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

এর আগে, ফেসবুক খুলে দিতে সংশ্লিষ্ট ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও অপারেটদের সঙ্গে বৈঠক করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহজাহান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেসবুক খুলে দিতে সরকারের নির্দেশনার পর বিটিআরসি ভবনে এ বৈঠকে বসেন কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, একাত্তরে মানবতাবিরোধী মামলায় সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নিরাপত্তার স্বার্থে গত ১৮ নভেম্বর ফেসবুক বন্ধ করে দেয় সরকার। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপও।

২১ নভেম্বর রাতে সাকা-মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুকের আপত্তিকর আধেয় ও ব্যবহার নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলা হয়।

এরপর গত ৬ ডিসেম্বর এ নিয়ে মাধ্যমটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন সরকারের তিন মন্ত্রী।

তাদের বৈঠকের পর জানানো হয়, ফেসবুকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এরইমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক দফায় ফেসবুক খুলে দেওয়ার আভাস দেওয়া হয়।

অবশেষে বৃহস্পতিবার মাধ্যমটি খোলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী।

কেবি,এমকে