প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, ‘মিডিয়ার স্বাধীনতা অনেকক্ষেত্রে গণমাধ্যমের মালিকদের স্বাধীনতায় পরিণত হয়।’
রাজধানীর ধানমন্ডিতে মঙ্গলবার দুপুরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা-২০১৪’ শীর্ষক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
গওহর রিজভী বলেন, ‘আজকাল অনেক সাংবাদিকের সঙ্গে আমার কথা হয়। তাতে মনে হচ্ছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে- ফ্রিডম অব ওনার অব দ্য মিডিয়া।’
গণমাধ্যমে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্যকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবার সময় এসেছে উল্লেখ করে গওহর রিজভী বলেন, ‘কর্পোরেশনগুলো কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের দিয়ে সরকারকে এ্যাটাক করে সংবাদ প্রকাশে বাধ্য করে।’
ইংল্যান্ডের মিডিয়া সম্রাট রুপার্ট মারডকের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যারা তাকে চিনেন তারা বুঝবেন আজকাল কীভাবে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো মিডিয়ার মাধ্যমে সরকারকে অযাচিত চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে।
এই বিষয়গুলোতে মিডিয়াকেই ব্যবস্থা নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে মিডিয়ার রেগুলেশন মিডিয়া নিজে করুক। কিন্তু তা আমি দেখি না। কোড অব এথিকস, এ্যাকাউন্টিবিলিটি, কমিটি দেখছি না। মিডিয়া যদি নিজেকে নিজে রেগুলেট না করে তাহলে অন্য কেউ এসে মিডিয়াকে রেগুলেট করতে হবে।’
‘শুধু এডিটরস কাউন্সিল দিয়ে হবে না। কারণ ওখানে ওনারদের স্বার্থ বেশি সংরক্ষিত হয়। জার্নালিস্টদের নিজেদেরই কোড অব এথিকস করতে হবে।’
নাম উল্লেখ না করে প্রিন্ট মিডিয়ার একজন সিনিয়র সাংবাদিককে তার প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো নোটিশ এমনকি বেতন পর্যন্ত না দিয়ে চাকরিচ্যুত করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ওই সাংবাদিক সম্পাদকের কথা শুনেননি। কারণ সম্পাদক তাকে দিয়ে মালিকের চাপিয়ে দেয়া এসাইনমেন্ট করাতে চেয়েছিলেন।’
গওহর রিজভী বলেন, এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে মিডিয়াকেই উদ্যোগ নিতে হবে। সরকার উদ্যোগ নিলেই সমালোচনা হবে।
তার মতে, কোনো মতেই সাংবাদিকদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা যাবে না। মিডিয়ার লাইসেন্স নিয়ে অনেকে মিথ্যাচারও করছেন। অনেক ক্ষেত্রে এটা সহ্য করতে হবে। কিন্তু, মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া উচিত না। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা দ্বিমত করতে পারি, কিন্তু কারো মতকে অশ্রদ্ধা করতে পারি না।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে টিআইবি’র চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, ‘সরকার ভাবে তারা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হয়ে যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। কিন্তু, এটাও বুঝতে হবে গণমাধ্যম প্রতিদিন জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হচ্ছে।’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যম ও টিআইবি একই পথের পথিক।
এবারের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় প্রিন্ট মিডিয়া (আঞ্চলিক) পুরস্কার পান খুলনার দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক এইচ এম আলাউদ্দিন, জাতীয় বিভাগে প্রথম আলোর অরূপ রায়। ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিভাগে এসএ টিভির সাজ্জাদ পারভেজসহ তিন ক্যামেরাপারসন কামরুল হাসান সেলিম, আব্দুল আল মামুন ও সালাউদ্দিন তারেক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক খালেদ মুহীউদ্দীন, শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া খায়ের, প্রমুখ।
জেআই





