সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গণমাধ্যমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, আইনটিতে সাংবাদিকদের দাবি অনুযায়ী অন্তত একটি ইতিবাচক ধারা যুক্ত করা উচিত ছিল। তবে আইনটি যাতে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধে অপব্যবহার না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখাসহ আইনটি সংস্কারে গণমাধ্যম কর্মীদের সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তারা।

সংসদে ভেতর বিরোধীপক্ষের বিরোধিতা, উদ্বেগ, আপত্তি আর সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের সব মতামতকে উপেক্ষা করে বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পাস হয়েছে বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। অজামিনযোগ্য এ আইনটির মাধ্যমে মিথ্যা, মানহানিকর তথ্য প্রকাশসহ এ ধরণের কোনো অভিযোগ পেলে পুলিশ কোনো ধরনের পরোয়ানা কিংবা অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি ও যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন।

এটি কার্যকর হলে বিতর্কিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের কথা বলা হলেও সেখানে ঠিকই প্রযুক্তি আইনের প্রশ্নবিদ্ধ চারটি ধারা যুক্ত রয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তার আইনে সংযুক্ত করা হয়েছে ব্রিটিশ আমলের সমালোচিত অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টটিও। এই অ্যাক্টটিতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তি করা যাবে না। সব মিলিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজের ক্ষেত্রে আইনটি বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন সিনিয়র সাংবাদিকরা। আইনে সাংবাদিকদের দেয়া সব মতামতকেও উপেক্ষা করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তারা।

সিনিয়র সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘মন্ত্রী বললেন, এটা সাংবাদিকদের ওপর ব্যবহার করা হবে না, এটা তো একটা মৌখিক আশ্বাস। প্রভাব তো পড়বেই। গণমাধ্যম হলো পৃথিবীর সব থেকে অসহায় প্রফেশন, এটা একটা প্রফেশন কিন্তু কোনো রক্ষা কবজ নেই। সাংবাদিকরা বিশেষ কোনো আইনি সুবিধা ভোগ করে না।’

সংবাদপত্র দমনের জন্য আইনটি করা হয় নি। সংসদে মন্ত্রী এমন বললেও তাতে আশ্বস্ত হতে পারছেন না সাংবাদিকরা। তারা বলছেন, যেহেতু আইনটি পাস হয়ে গিয়েছে এখন যাতে কেউ এর অপব্যবহার করতে না পারে সেজন্য সাংবাদিকদের সজাগ থাকতে হবে।

 নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘আইন কানুন যেন সাংবাদিকতাকে কঠিন করে না ফেলে, এ ব্যাপারে তাদের সোচ্চার হতে হবে।’

সাংবাদিক মনজুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘এমন কিছু বিধান সাংবাদিকদের ওপর ঝুলিয়ে রাখা হল, যার কারণে সাংবাদিকরা আতঙ্কের মধ্যে থাকে। কাজেই আমাদের প্রথম উদ্বেগ হল, এরকম আইন চূড়ান্ত করার আগে আমাদের মতামত নেয়া হল না, এটা আমাদের হতাশা। দ্বিতীয় হল আইনের অপপ্রয়োগ হওয়ার আশঙ্কা। ৫৭ ধারায় বলা হয়েছিল, এটা সাংবাদিকদের জন্য না, কিন্তু পরে এটা নিয়ে অপপ্রচার হয়েছে। কাজেই এটা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ। প্রথমটার জন্য হতাশা, পরেরটার জন্য উদ্বেগ।'

গত ২৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল-২০১৮ এর খসড়া অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। আর গত ৯ এপ্রিল বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। সূত্র: সময় নিউজ।

এসএম