বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের খুনিদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। আজ শনিবার সকালে ১২ দফা দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন সাংবাদিকরা।

সাংবাদিকদের ১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছেঃ

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবারারের খুনিদের বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার, এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগ এখন ফ্রাংকেস্টাইনের দানবে পরিণত হওয়ার শিক্ষাঙ্গনে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, বুয়েটের দালাল ভিসির পদত্যাগ, আবরার হত্যার ক্ষতিপূরণ প্রদান, আবরারের মৃত্যুর দিনকে শহীদ আবরার দিবস ঘোষণা, ফেনি নদীর পানি বন্টন সহ ভারতের সাথে দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তি সমূহ বাতিল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখলমুক্ত করে সহবস্থান নিশ্চিত ও শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশে ফিরিয়ে আনা, সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতিসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার, বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়া, কথায় কথায় সাংবাদিকদের চাকুরিচ্যুতি, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ, নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ গেজেটে সংযোজিত সাংবাদিকদের স্বার্থ বিরোধী ধারা, উপধারা বাতিল করে অবিলম্বে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা এবং দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে বর্তমান অনির্বাচিত সরকারকে পদত্যাগ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়া।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল আমিন রোকন,জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি একেএম মহসিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শাহিন হাসনাত, খন্দকার আলমগীর, রাশেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল আমিন গাজী বলেন, মত প্রকাশে বাধা, গণতন্ত্র বিলিয়ে দেয়া ও স্বাধীনতার বিপক্ষে যারা তৎপরতা চালায় সাংবাদিক সমাজ কখনো তা সহ্য করবে না। আমরা এই কুচক্রীদের বিরুদ্ধে বরাবরই রাজপথে আন্দোলন করেছি,করবো এবং চালিয়ে যাবো।

ছাত্রলীগের হাতে নির্মম নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক এই মেধাবি ছাত্র আবরার। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সে যে কথা বলেছে তা শুধু তার একারই কথা নয় বরং এই দাবি এদেশের ১৬ কোটি মানুষের।

এদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রুহুল আমিন গাজী আরও বলেন, আজ দেশের সর্বত্র সন্ত্রাসের জনপদে পরিনত হয়েছে, এ অবস্থা আর চলতে দেয়া যায় না। গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সবাইকে একসঙ্গে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ বলেন, আবরারের মতো একজন মেধাবী ছাত্রকে এভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় সারাদেশ স্তব্দ হয়ে গেছে। দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়ে সরকার ও তার দলের লোকজন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। মেধাবি এই ছাত্রকে ছাত্রলীগের বর্বর নির্যাতনে মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারিনা।

তিনি বলেন, মানুষ এখন সত্য কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। দেশের স্বার্থে আমাদের আরেকবার মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে হবে।

এম আবদুল্লাহ বলেন, আবরারকে হত্যা করা মানেই হচ্ছে মত প্রকাশে বাধা দেয়া। তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগ শুধু বুয়েটের একজন ছাত্রকেই হত্যা করেনি সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন নিপিড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সাংবাদিক সাগর-রুনিসহ একজন সাংবাদিক হত্যারও বিচার হয়নি।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন,আবরারার বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আর যারা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এরা আমাদের জাতীয় শত্রু। বাংলাদেশকে বাঁচানোর জন্য এদেশদ্রোহীদের প্রতিহত করতে হবে।

তিনি বলেন, খুনিরা আবরারকে হত্যা করেনি তারা বাংলাদেশকে হত্যা করেছে। তারা আবরারকে হত্যা করেনি লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত আমাদের পতাকাকে হত্যা করেছে, তারা হত্যা করেছে গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও এদেশের স্বাধীনতাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি শুধু শাসকই নন, মাও। আপনি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী, আবরারকে ছাত্রলীগ খুন করেছে,তাই খুনিদের মা হিসেবে আর আপনাকে দেখতে চাইনা। আপনি বলেছেন মানবিক কারনে ভারতকে পানি দিচ্ছেন। কিন্তু তারা যখন ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে সব পানি একতরফা প্রত্যাহার করে নেয়,আমাদের শুকিয়ে মারে তখন আপনার মানবিকতা কোথায় থাকে?

শহিদুল ইসলাম বলেন, আবারের অপরাধ সে দেশের পক্ষে কথা বলেছিল। সে দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল। তার স্ট্যাটাসের কোথাও কোনো উস্কানী ছিল না, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সে মন্তব্য করেনি। দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এদেশের গণমাধ্যমগুলোর যে কথা বলতে পারেনি সেই কথাই বলেছিল আবরার।

ভারতের সঙ্গে সরকারের দেশবিরোধী যে চুক্তি হয়েছে তার বিপক্ষে মত প্রকাশ করতে গিয়ে আবরারের মতো একজন মেধাবী ছাত্রকে ছাত্রলীগ নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আবরার শুধু একজন মায়ের সন্তানই নয়, আজ সে বাংলাদেশে একটি বিপ্লবের নাম।