বাংলাদেশে জীবনের হুমকির জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনকে দায়ী করে ফেসবুকে স্টেটাস দেওয়ায় আটকের তিনদিনের মাথায় মুক্তি পাওয়া সাংবাদিক প্রবীর শিকদার বলছেন, তিনি কোনও ভুল করেননি।

জামিনে মুক্তি পেয়ে ঢাকায় আসার পথে তিনি এ কথা বলেন।

সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ফেসবুকে কাউকে মানহানি করা নিয়ে তার কোনও অনুশোচনা হচ্ছে কিনা - এই প্রশ্নে প্রবীর শিকদার বলেন, প্রশ্নই আসেনা...একজনের মানহানির চেয়ে আমার জীবনের শঙ্কা অনেক জরুরী।

"জীবনের শঙ্কার জন্য আইনের কাছে যাবো, থানা পুলিশের কাছে যাবো, পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনা তখন এই শঙ্কার কথা মানুষকে জানাতে হবে, নিরুপায় হয়েই আমি ফেসবুকের আশ্রয় নিয়েছি।"

গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে প্রবীর শিকদার তার ফেসবুক স্টেটাসের জন্য দু:খ প্রকাশ করেছিলেন।

কিন্তু জামিনের পর তিনি দাবি করেন, তাকে দু:খ প্রকাশ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। "আমি সে কথা আদালতে বলেছি.. আমি মোটেই অনুতপ্ত নই।"

তার ফেসবুক পাতায় প্রবীর শিকদার লিখেছিলেন তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তার কিছু হলে মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ তিন ব্যক্তি দায়ী থাকবেন।

এর প্রেক্ষাপটে, সোমবার গোয়েন্দা পুলিশ তাকে তার ঢাকার বাসা থেকে নিয়ে যায়।

পরে ফরিদপুরের এক আইনজীবীর করা মানহানির মামলায় তাকে ফরিদপুরে জেল হাজতে নেয়া হয়।

গতকাল (মঙ্গলবার) ফরিদপুরের আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

কিন্তু পরদিনই জিজ্ঞাসাবাদ না করেই পুলিশ তাকে আবারো আদালতে নিলে, বিচারক তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

তার হঠাৎ এই মুক্তিতে প্রবীর শিকদারের কণ্ঠেও কিছুটা বিস্ময়ের ইঙ্গিত ছিল।

তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি হয়েছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা তা সম্ভব নয়।

তার পরিবার এবং ফরিদপুরের কজন সাংবাদিক বলেছেন, হিন্দু সম্পত্তি দখল নিয়ে এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে ফেসবুকে লেখার কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।

তাকে দায়ী করে ফেসবুকে স্টেটাস দেওয়ায় সোমবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

প্রবীর শিকদারের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার কথা মন্ত্রী অস্বীকার করলেও, প্রবীর শিকদার বলেন, মন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতাতেই ফরিদপুরের ঐ আইনজীবী মামলাটি করেছেন। সূত্র : বিবিসি।

কেএইচ