‘আমি কাশিমপুর থেকে ৫৪ হাজার বর্গমাইলের কারাগারে স্থানান্তরিত হয়েছি’ বলে নিজের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন আমারদেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
তিনি আজ মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলণে এ মন্তব্য করেন।
গত ২৩ নভেম্বর কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর এই প্রথম মিডিয়ার মুখোমুখি হন মাহমুদুর রহমান। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, দীর্ঘ চার বছর তিনি কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার শারিরীক অবস্থাও ভাল না। ঢাকা মেডিকেলের ৩ সদস্যের একটি বোর্ড তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। এর প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ তাকে শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা করানোর জন্য অনুমতি দিয়েছে। এক্ষেত্রেও আপিল বিভাগ চারটি শর্ত দিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- যুক্তরাজ্যে তিনি ৩০ দিনের বেশি অবস্থান করতে পারবেন না, সেখানে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না, চিকিৎসা শেষে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে মামলার নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে।
মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি এ সরকারের ৮বছরে ৫ বছর জেল খেটেছি, এবারে একটানা ৪বছর ছিলাম । সর্বশেষ যাওয়ার আগে বই মেলায় আমার যে বইটি প্রকাশিত হয়েছিল, তার নাম দিয়েছিলাম ‘মুসলমানদের মানবাধিকার থাকতে নেই’ সেটি আমার বিষয়েই মিলে গিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আদেশে আমার মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে, এবং আমাকে যখন বলে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য শুধুমাত্র ইউকে যেতে পারবো। সে আলোকে আমি যখন ভিসার জন্য আবেদন করলাম, ইউকে সরকার আমাকে ভিসা দিতে অস্বিকার করেছে। তিনি বলেন, এর মানে আমার চিকিৎসার জন্যও বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই । যেহেতু সুপ্রিমকোর্টের আদেশে শুধুমাত্র ইউকে ব্যতিত আর কোন রাষ্ট্রের ভিসা আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
মাহমুদুর রহমান বলেন, এসব কিছুর মানে দাঁড়ায় যে, আমার মত অধিকারহিন মানুষ এই মুহুর্তে দ্বীতিয় জন আর নেই।
নিজের ‘অবস্থান’ ও ‘আদর্শ’ থেকে সরে আসবেন না জানিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, আমার চিকিৎসার অধিকার, বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী আমার মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে। আমার ওপরে যে নির্যাতন হয়েছে তা আর কারও ক্ষেত্রে হয়নি। তারপরও আমি আমার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবো না। মুসলমানদের পক্ষে, ইসলামের পক্ষে মৃত্যু পর্যন্ত অবিচল থাকবো।
যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার জন্য ভিসা না পাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, তিনি এ ঘটনায় দুঃখিত হলেও অবাক হননি। তিনি মন্তব্য করেন মাহমুদুর রহমান যেহেতু মুসলিম সেহেতু বাংলাদেশে বা কোন পশ্চিমা বিশ্বে তার মানবাদিকার থাকবেনা এটাই স্বাভাবিক। তিনি এ ক্ষেত্রে আমেরিকার বর্তমান অবস্থাও তুলে ধরেন।
নিজের শারিরীক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বলেন, তার কোনো কর্মক্ষেত্র নেই। জেলখানায় বসেও তিনি লিখতেন। বর্তমানে ডান হাত তুলতে পারেন না। ঠিকভাবে লিখতেও পারেন না। এরপরও তিনি লিখার চেষ্টা করছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ের মঞ্চে ফরহাদ মাজহার, রুহুল আমিন গাজী, শওকত মাহমুদ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ইলিয়াস খানসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।





