অবশেষে এবার দুর্নীতি দমন কমিশনের(দুদক) নীতি নির্ধারণী পর্যায়  থেকে  সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা আগাম  তথ্য প্রদান করলে দুদক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে  বিভাগীয় ব্যবস্থা (ডিপি) গ্রহণ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
সম্প্রতি মিডিয়ায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনার আগাম তথ্য প্রকাশের পর দুদক এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানা যায়।
গত রোববার দুদকের অনুষ্ঠিত সভায় কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। সাংবাদিদের সঙ্গে কথা বলার সময় শর্ত থাকতে হবে। কোনো ধরনের আগাম তথ্য উপাত্ত দেয়া যাবে না।
বিশেষ করে দুদকের পরিচালক, উপ-পরিচালক, সহকারি পরিচালক ও উপ-সহকারি পরিচালক গুরুত্বপূর্ণ ডেস্কে দায়িত্ব পালন করছেন এমন  কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়া হয়েছে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কেবলমাত্র কথা বলবেন জনসংযোগ কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান ও ২ কমিশনার। এর বাইরে আর কেউ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না।
রোববার কড়া ভাষায় হুশিয়ার করে দেয়ার পর থেকে সাংবাদিকদের তথ্য প্রাপ্তিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কর্মকর্তারা স্বাভাবিক কথা-বার্তা পর্যন্ত বলতে পারছেন না। গতকাল বেশ কয়জন দুদক কর্মকর্তা ভদ্রতার খাতিরে মুখে আঙ্গুল ঠেকিয়ে ঈশারায় কথা বলে বিদায় করেন। কারণ জানতে চাইলেও মুখে আঙ্গুল দিয়ে চুপ থাকেন।
বেশকিছু দিন আগ থেকেই দুদক গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের একটি চেষ্টা চালায়। কর্মরত সংবাদকর্মীদের দুদক কার্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
বিকাল ৩টার পর দর্শনার্থীর পাস সংগ্রহ করে প্রবেশে বাধ্য করা হয় সাংবাদিকদের। এ বিষয়ে সুর্নিদিষ্ট কাউকে অ্যাডড্রেস না করে একটি অফিস সার্কুলার জারি করে দুদক প্রশাসন।
এই নিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে দুদক বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স এগেনস্ট করাপশনের (র্যা ক) নেতৃবৃন্দের  সঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমঝোতা হয়। সেখানে কড়াকড়ি শিথিল করে বেলা ১২টা থেকে সংবাদ কর্মীদের দুদক কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তথ্য প্রদানে কড়াকড়ি করে গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য সাংবাদিকেদের বলেন, এটি কোনো ভাবেই গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ নয়। দুদকের সব কর্মকর্তাই যদি গণমাধ্যমে কথা বলেন তাহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশিত হতে পারে। তাই মুখপাত্র ছাড়া অন্যদের তথ্য প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা আগেও ছিলো। তিনি বলেন,  গণমাধ্যম সব সময় দুদকের সহযোগী শক্তি-প্রতিপক্ষ নয়।
[b]ঢাকা,একে,২১ এপ্রিল(টাইমনিউজবিডি.কম)//এএইচ[/b]