গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকার নিষ্ঠুর আচরন করছে উল্লেখ করে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নবম ওয়েজ বার্ড গঠন না করলে তথ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।
শুধু তাই নয়, শওকত মাহমুদ, মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমানসহ কারাবন্দী সাংবাদিক নেতাদের মুক্তি না দিলে প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওর কর্মসূচী দেয়া হবে।
বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিয়ে সাংবাদিকদের বেকারত্বের অবসান ঘটাতে হবে। তা না হলে বেকার সাংবাদিকদের বেতন-বোনাস রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পরিশোধ করতে হবে।
আজ শনিবার (৪ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্তরে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে’র যৌথ উদ্যোগে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন, শওকত মাহমুদ, মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমানের অবিলম্বে মুক্তি, বন্ধ সব মিডিয়া খুলে দেয়া, সাগর-রুনীসহ সব সাংবাদিকের খুনীদের গ্রেফতার ও বিচার, গণমাধ্যমবিরোধী সব কালাকানুন বাতিলসহ ৭ দফা দাবীতে এ সাংবাদিক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল তোপখানা রোড প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাবে শেষ হয়।
বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন হারুনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএফইউজে’র সহকারি মহাসচিব মোদাব্বের হোসেন, সাবেক সহসভাপতি নুরুল আমীন রোকন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ডিইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক শাহীন হাসনাত।
বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, বিচারপতিদের বেতন-ভাতা দ্বিগুন করা হয়েছে।
এতে করে পণ্যবাজারে আগুন লেগেছে। একই বাজার থেকে গণমাধ্যম কর্মীদেরও বাজার করতে হচ্ছে। দ্রব্যমূলের উর্ধগতিতে গণমাধ্যম কর্মীরা আজ দিশেহারা।
তাই সরকারকে বলব, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করে সংবাদ কর্মীদের এই দুরবস্থার অবসান ঘটান।
বেতনবৈষম্য দূর করুন। নইলে আমরা তথ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। একই সঙ্গে আমাদের দাবী হচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশনের মতো স্থায়ী ওয়েজ বোর্ড গঠন করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার গায়ের জোরে শওকত মাহমুদ, মাহমুদুর রহমান ও শফিক রেহমানকে কারাগারে আটকে রেখেছে।
তাদের সব মামলায় জামিন হওয়ার পরও সরকার শ্যোন অ্যারেস্ট দিয়ে তাদের মুক্তি বাধাগ্রস্ত করছে। বর্তমান সরকারের আমলে ২৭ জন সাংবাদিক খুন হয়েছে, এখন পর্যন্ত একটা খুনেরও বিচার হয়নি।
এম এ আজিজ বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে সাংবাদিক ইউনিয়নের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ আন্দোলনে আমরা আছি।
বরাবরই জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার পাশাপাশি সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে সরকার ওয়েজবোর্ড গঠন করতে বাধ্য হয়েছে। এবার তা না করে সরকার টালবাহানা করছে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে ওয়েজবোর্ড আদায় করতে হবে।
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড গঠন না করে সরকার সাংবাদিক সমাজের প্রতি যে অবিচার করছে তার বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন।
প্রতিপক্ষ সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সাংবাদিকদের দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য বিনষ্ট করে এককভাবে ওয়েজবোর্ড আন্দোলন করছেন।
এটা সাংবাদিক সমাজের জন্য সুখকর হবে না। তিনি বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড আদায় ও অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমেই সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় সম্ভব।
এসএম





