১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা। ধীরে ধীরে ট্রাম, মেট্টো রেল, ট্যাক্সি ক্যাব, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে ধীরে ধীরে দর্শক ও শ্রোতা এসে ভিড় জমাচ্ছে কোলকাতার নন্দন পার্শ্বস্থ বাংলা আকাদেমী সভাঘরে।

২০১৪ সালের চোখ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান বাংলা আকাদেমীর দোতলায়। কোলকাতার বিভিন্ন স্থান ও বাংলাদেশ থেকে লেখক ও সাংবাদিক ও অন্যান্য দর্শক এসে ভিড় জমালো অবশেষে।

অনুষ্ঠান শুরুর ঘোষণা দিলেন সঞ্চালক কবি অমল করঃ’ কিছুক্ষনের মধ্যেই চোখ সাহিত্য পত্রিকার আয়োজনে দু’পার বাংলার লেখক ও সাহিত্যসেবীদের সমন্বয়ে শুরু হচ্ছে বিজয় দিবস ২০১৪ স্মারক বঙ্গবন্ধু ও বেলাল মোহাম্মদ স্মরণে চোখ সাহিত্য পুরস্কার অনুষ্ঠান ২০১৪।

ধীরে ধীরে মঞ্চে উপবিষ্ট হলেন সুরকার ও সংগীত পরিচালক রবিন মুখ্যার্জী, কবি পঙ্কজ সাহা, কবি সোহানী হোসেন, কবি ও ছাড়াকার ভবানী প্রসাদ মজুমদার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক অশোক ভদ্র, বাংলাদেশ থেকে আগত কবি, গীতিকার ও ঔপন্যাসিক মোহাম্মদ কাফি শেখ এবং কবি ড.বিদ্যুৎ কুমার দাশ।

সুরকার রবিন মুখার্জীর স্ত্রী অমৃতা দে ও চন্দনা দামে’র রবীন্দ্র সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে যথারীতি অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেল। কবিতা পাঠ করলেন দু’পার বাংলার ড’জন খানেক কবি।

আবৃতি করলেন কোলকাতার ছড়াকার ভবানী প্রসাদ মজুমদার, শংকর সাহা, পুতুল চক্রবর্তী, শোমা সেন, কৃষ্ণা বসু, শংকর ঘোষ, শুভঙ্কর সাহা, সোহানী হোসেন এবং আরও অনেকে।

বিজয় স্মারক পেলেন সুরকার রবিন মুখ্যার্জী ও বিদ্যুৎ কুমার দাশ, অন্নদা শংকর স্মারক পেলেন ভবানী প্রসাদ মজুমদার, কবি সুভাষ স্মারক পেলেন সাহিত্য গবেষক ড. বিপ্লব মজুমদার, শামসুর রহমান স্মারক পেলেন কবি সোহানী হোসেন। মূল বক্তব্য দিলেন কবি মানিক দে।

এবার ঘনিয়ে এলো চোখ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪ ’র পর্ব। ধীরে ধীরে কবি অমল কর ও চোখ সাহিত্য পুরস্কারের সম্পাদক মানিক দে’র আহ্বানে মঞ্চে এগিয়ে এলেন বাংলাদেশের কবি ও গীতিকার মোহাম্মদ কাফি শেখ।

তার হাতে চোখ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪ তুলে দিলেন কবি মানিক দে ও পঙ্কজ সাহা। মানপত্র পাঠ করলেন কবি অমল কর এবং মানপত্র তাহার হাতে তুলে দিলেন সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক অশোক ভদ্র।

কবি কাফি শেখের গলায় দস্তম্ভ্য (উত্তরীয়) পরিয়ে দিলেন কবি ও সাহিত্য গবেষক ড. বিপ্লব মজুমদার। এই হৃার্দিক সংবর্ধণার জবাব দিলেন কবি কাফি শেখ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে। তিনি বললেন চোখের যে কোন ডাকে কবি কাফি শেখ কোলকাতায় এসে হাজির হবে।

আপনাদের এই ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারবো না। আসলে সংস্কৃতির কোনো নিজস্ব ভূখন্ড নেই। সমস্ত দেশ ও জাতি সংস্কৃতির একই ভূবনে আবদ্ধ। আমি এই অনুষ্ঠানের দীর্ঘায়ু কামনা করি।

উল্লেখ্য যে, গত বছর এই পদক পেয়েছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুন। অনুষ্ঠানটি ছড়া, সংগীত, বক্তৃতা ও কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে প্রাণময় হয়ে উঠেছিল। অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত লেখকদেরকে বই, কলম, বিশেষ পুরস্কার, ফুল এবং সবার মাঝে চোখ কর্তৃক প্রকাশিত মনোরম স্মরণিকা বিতরণ করা হয়।

এসএইচ