বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া, বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদসহ আটক সাংবাদিকদের মুক্তি, সাগর-রুনির প্রকৃত খুনিদের প্রেফতার, সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ ও নবম ওয়েজ বোর্ডের দাবিতে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রেসক্লাবের ডিইউজে'র (ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন) কক্ষে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, শীত যেহেতু আসছে অচিরেই বসন্ত আসবে। আপনারা ভয় পাবেন না। আমরা গত তিন বছর যে সকল আন্দোলন করেছি আপনারা কি দেখেছেন তাদের কোন আন্দোলনে যোগদান করতে? তারা কেন আসে ইউনিয়ন দখল করতে? বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার করা হচ্ছে। আপনারা কোন অপপ্রচারে কান দিবেন না। সকল সাংবাদিকদের অনুরোধ তাদের সকল অপকর্মগুলো সকল হাউজে তুলে ধরুন। তাদের প্রত্যাখান করুন। আপনারা একটু শক্ত থাকুন এরা পালিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল হোসেন বলেন, তারা প্রেসক্লাব দখল করেছে আবার আজ ইউনিয়ন দখল করতে এসেছে। আমি গতকাল রাতেই এই খবর পেয়েছি। তারা এই অপকর্ম করতে পারে। আমি সকল ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। সকল দখলদারদের বোধদয় হোক, তারা ভাল পথে ফিরে আসুক। অন্যায় থেকে দূরে থাকুক।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাব দখলে মাধ্যমে দখলদাররা সাংবাদিকদের সম্মান ভূলুণ্ঠিত করেছে। এ সকল সাংবাদিকদের ধিক্কার দিতে ইচ্ছে হয়। কোন মানুষ এত নিচে নামতে পারে না। ডিইউজের কোন সদস্য এমন ঘৃণ্য কাজ করতে পারে এটা আমাদের ভাবতেই লজ্জা হয়। আপনারা যারা দখল করতে চান তাদের আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনারা কত দিন জোর করে ক্ষমতায় ছিলেন? আপনারা ইচ্ছে করলে দখল করবেন আর আমরা পালিয়ে যাব এটা ভাবলে আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করবেন।

আজকে যে সকল সাংবাদিকবৃন্দ জাতীয় প্রেসক্লাবেকে দখলদারদের হাতে তুলে দিয়েছেন তারা ইতিহাসের পাতায় কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছেন। আমরা আশা করি আপনাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।

পরিশেষে আমরা বন্ধুদের প্রতি আবেদন করতে চাই যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের প্রতিহত করুন। এই প্রতিষ্ঠানের ঐক্য ও মর্যাদা রক্ষা করুন। আপনাদের ন্যয়-নিষ্ঠ ও সঠিক ভূমিকার কারণে ডিইউজে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

বিএফইউজের মহাসচিব এম এ আজিজ বলেন, দেশে চরম ক্রান্তিকাল চলছে আপনারা জানেন। নির্বাচনের মাধ্যমেই নেতৃত্ব পরিবর্তন হবে। এর বিকল্প নেই। দখলবাজরা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ হবে। ডিইউজে নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে। যেহেতু তফসিল ঘোষণা হয়েছে আপনারা নির্বাচনে অংশ নেন। জয়লাভ করলে এই্ চেয়ারে বসেন। অবৈধভাবে বসা যাবে না। এই প্রেসক্লাব অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। শওকত মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চরম নির্যাতন করা হয়েছে। অবৈধ দখলদাররা বেশিদিন টিকবে না। সরকার পরিবর্তন হলে এক মিনিটও টিকে থাকতে পারবেন না। বন্ধুরা আপনারা বিচলিত হবেন না। আমরা পরজিত হইনি। বিজয় আমাদের আসবেই।

আমি বিএফইউজের মহাসচিব ঘোষণা করছি, কবি আব্দুল হাই শিকদার ডিইউজের সভাপতি। জাহাঙ্গীর আলম প্রধানই সাধারণ সম্পাদক। এই ইউনিয়নকে রক্ষা করতে প্রয়োজন হলে আমরা জেলে যাব, রক্ত দিব। ইউনিয়নকে রক্ষা করব। আমি পরিষ্কারভাবে বলছি, প্রেসক্লাব আমাদের দখলে আসবেই। অবৈধভাবে দখলবাজরা যা করছে সকল কর্মকাণ্ডই অবৈধ। আমরা বলছি, যারা প্রকৃত সাংবাদিক সকলকে আমরা প্রথম বৈঠকেই প্রেসক্লাবের সদস্য বানাব। জয় আমাদের হবেই হবে। এই বলে শেষ করছি।

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন গাজী বলেন, আমরা এই ইউনিয়নের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। শওকত মাহমুদকে মুক্তি দিতে হবে। সাগর-রুনির প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের আত্ততায় আনতে হবে। অবৈধ মেম্বরশীপ দিয়ে লাভ নাই। প্রেসক্লাবের অবৈধ কমিটি টিকে থাকবে না। আদালতেও বৈধতা পাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত শওকত মাহমুদকে মুক্তি দেয়া না হবে ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে। সকল বন্ধ মিডিয়া খুলে দিতে হবেই হবে। আমি বলতে চাই আপনারা ব্যথিত হবেন না। আপনারাই হবেন প্রেসক্লাবের বৈধ মেম্বর। আগামীকাল ডিইউজে সভাপতি যে কর্মসূচী দিবে তাতে আমরা সকলে একমত। আন্দোলন সফল করব যতক্ষণ আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারব।

ডিইউজে সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে। এই দিনকে নিয়ে যাব সেই দিনের কাছে। ইউনিয়নকে দখল করা এত সহজ না। শওকত মাহমুদসহ সকল সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে হবে। বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিতে হবে। সাগর-রুনি হত্যার বিচার করতে হবে। বিশ্বাসঘাতকদের পরিণাম খুবই খারাপ হয়। সময় আছে ভালো হয়ে যান। শেষ পরিণতির জন্য অপেক্ষা করবেন না।

আগামীকাল হতে প্রতিদিন সকাল ১০টায় এই কক্ষে সমাবেশ হবে। আমাদের সকলের ভুল বুঝাবুঝির অবসান করতে হবে। কালকের থেকে পরবর্তি ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমাদের কর্মসূচী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই যারা কষ্ট করে প্রগ্রাম বাস্তবায়ন করেছেন।

কেএইচ