আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দিগন্ত টেলিভিশনকে পুনরায় চালু করার অনুমতি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে দিগন্ত টেলিভিশনের ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তিতে সাময়িক সম্প্রচার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদী সংহতি সম্মেলনে বক্তৃতাকালে কাদের সিদ্দিকী এ আহবান জানান।
দেশ ও জাতির স্বার্থে গণমাধ্যমের ওপর আরোপিত সকল বিধি-নিষেধ তুলে নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বঙ্গবীর আরও বলেন, সব সময় সরকারের ইচ্ছে ও খামখেয়ালিতে দেশ চলে না।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অন্ধকারে পথ খুজেঁ পাচ্ছে না। তাই সরকারের উচিত সঠিক পথের দিশা পেতে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ দেয়া।
দিগন্ত টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক মাহবুবুল আলম গোরার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নেতা, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পাস হতে যাওয়া সম্প্রচার নীতিমালা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। তারা বলেন, ১৫৪ জন নির্বাচনবিহীন এবং ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভোটে নির্বাচিত বাকি সদস্যদের দিয়ে অবৈধভাবে যে সংসদ চলছে সেখানে এ ধরনের কোনো বিধান প্রণয়ন হতে পারে না।
বর্তমান সরকারকে জালিম সরকার আখ্যায়িত করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, সম্প্রচার নীতিমালার পক্ষে এই জালিম ও ফাসিক সরকার যে সাফাই গাইছে তাতে কারো বিশ্বাস রাখা ঠিক হবে না।
কুরআনের সূরা ইয়াসিনের একটি আয়াত উল্লেখ করে শওকত মাহমুদ বলেন, কোনো ফাসিকের কথা যাচাই-বাছাই না করে তা বিশ্বাস করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন।
জুলুম নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষের পিঠ যেভাবে দেয়ালের সাথে ঠেকে যাচ্ছে তাতে দেশের সাধারণ মানুষই এই জুলুমবাজ সরকারের পতন ঘটাবে বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন।
সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কথা বলে ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে দিগন্ত টেলিভিশন বন্ধ করে রাখার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কেন দিগন্তকে বন্ধ রাখা হয়েছে তার কোনো ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত এই সরকার দেয়নি।
তারা বলেন, দিগন্তের পাশাপাশি ইসলামী টিভি, চ্যানেল ওয়ান ও আমার দেশ বন্ধ করে সরকার আবারও একদলীয় বাকশালের দিকে আগাচ্ছে। কিন্তু এর পরিণতি কখনো ভালো হবে না।
৭৫-এ যারা বন্ধবন্ধুকে হত্যা করে উল্লাস করেছিল, তারাই আজ আওয়ামী লীগ সরকারে আছে-এমন মন্তব্য করে অনুষ্ঠানে যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এটি একটি ওরস্যালাইন সরকার যা পান করার অযোগ্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘দিগন্ত টিভিসহ বন্ধ সব গণমাধ্যম খুলে দেওয়ার দাবি সরকারের কাছে জানিয়ে কোনো লাভ নেই। কারণ আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র এক সঙ্গে চলে না।’
তিনি বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন নেই। নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এ সব নিয়ে কেউ যেন কোনো টু শব্দ করতে না পারে, সে জন্য সম্প্রচার নীতিমালার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ ও মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এ সঙ্গে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে বিচার বিভাগকেও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তাই কেবল দিগন্ত টিভির জন্য নয়, এ সব পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য চাই জনগণের আন্দোলন।’
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, ‘সরকারের কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রের পক্ষে নয়। তারা মুখে বলে এক কথা, কাজে বলে অন্যরকম। সরকার মনে করছে, এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না। কিন্তু এটি তাদের অমুলক চিন্তা। আমরা মনে করি বর্তমান অবস্থা থেকে সরে না আসলে তাদের অধপতন অনিবার্য।’
মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক সাদেক খান, দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, দৈনিক দিনকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ, মহাসচিব এমএ আজিজ, ডিইউজের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাংবাদিক নেতা এম আব্দুল্লাহ, শহিদুল ইসলাম, কামার ফরিদ, কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক মুহাম্মদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কবি আল মাহমুদ উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো বক্তব্য রাখেননি।
ঢাকা, কেবি, ২৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ, জেআই





