বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ও সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, সরকার মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বার করে না বলেই শওকত মাহমুদকে আটক করেছে। তবে সাংবাদিক সমাজ দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে আনবে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিএফইউজে'র সভাপতি শওকত মাহমুদকে আটকের প্রতিবাদের এ সমাবেশে আয়োজন করা হয়।

বিএফইউজেৱর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজের মহাসচিব এমএ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএফইউজে'র সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা প্রদক্ষিণ করে। এছাড়াও আগামীকাল বুধবার বেলা ১২টায় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে সংগঠন দু'টি।

উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, বিএফইউজে'র একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদকে মঙ্গলবার আটক করেছে পুলিশ। রাজধানীর পান্থপথে সামুরাই কমিউনিটি সেন্টারের গেট থেকে সকাল সোয়া ১১টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

সামুরাই কমিউনিটি সেন্টারে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের ব্যানারে ‘বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপি, ভোট জালিয়াতি ও সরকারের হস্তক্ষেপ’ শীর্ষক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছিল। শওকত মাহমুদ আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের সদস্য সচিব।

সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজিত (বিএনপি সমর্থিত) প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এর পক্ষে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিলো।

নির্ধারিত সময়ে আয়োজকরা সেখানে গেলে তারা কনভেনশন সেন্টার কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েন। সেখান থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের সদস্য সচিব শওকত মাহমুদকে আটক করে নিয়ে যায় গোয়েন্দারা।

এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহবায়ক অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি (ডিইউজে) কবি আব্দুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।

শওকত মাহমুদকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) উপ- কমিশনার মাশরুখ খালেদ বলেন, শওকত মাহমুদকে শিগগিরই আদালতে নেয়া হবে।

আটকের পর ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার মুনতাছিরুল ইসলাম জানিয়েন, যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা গাড়ি পোড়ানো মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি শওকত মাহমুদ। তাকে আদালতে নেয়া হবে।

আর অনুষ্ঠানে বাধার বিষয়ে পুলিশ জানায়, ওই কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠান করার বিষয়ে পুলিশের কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি।

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, “শওকত মাহমুদের নামে কয়েকটি মামলা আছে। এ কারণেই তাকে ধরা হয়েছে।”

এমএইচ/ এআর