সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এবিএম মূসা শাসকগোষ্ঠীর দাসত্ব করেননি। তিনি শাসকদের কাছে বিবেক বন্ধক রেখে ক্ষমতার হালুয়া-রুটির পেছনেও ছুটেননি। সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলেছেন নির্ভয়ে। সেকারণে মৃত্যুর পরও তিনি প্রাপ্য সন্মান পাননি।

আজ (৯ এপ্রিল) শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থিত ইউনিয়ন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সমাবেশে ডিইউজে ও বিএফইউজে নেতারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে’র যৌথ উদ্যোগে এ সাংবাদিক সাবেশের আয়োজন করে।

ধারাবাহিক সমাবেশের পঞ্চদশ দিন কার্যত: এবিএম মূসার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে রূপ নেয়। সমাবেশে মরহুমের রূহের মাফফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এদিকে বিকেলে মোহাম্মদপুরে এবিএম মূসার বাসভবনে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত দোয়া মাহফিলেও শরীক হন বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিক এবিএম মুসা ছিলেন সত্যের কান্ডারি। তিনি ছিলেন ক্রান্তিকালের নায়ক। তিনি কখনো সত্যের সঙ্গে আপস করেননি। আমৃত্যু ছিলেন ন্যায়ের পক্ষে। ন্যায়ের পক্ষে থাকায় তাকে অনেক অপমানিত হতে হয়েছে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আব্দুল হাই সিকদারের সভাপতিত্বে ও বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বিএফইউজে মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, দৈনিক ইনকিলাবের সহকারি সম্পাদক আবদুল আউয়াল ঠাকুর, বিএফইউজে সহকারী মহাসচিব মোদাব্বের হোসেন, ডিইউজে’র সহ-সভাপতি খুরশেদ আলম ও সৈয়দ আলী আশফার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম, সাংবাদিক নেতা আবু ইউসুফ, জাকির হোসেন, কামার ফরিদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, শামসুল হক বসুনিয়া, শাখাওয়াত ইবনে মইন চৌধুরী, জসীম মেহেদী, ডি.এম. আমিরুল ইসলাম অমর, শাহাদাত হোসেন সরদার, মো. বোরহান উদ্দিন, মতিউর রহমান সরদার, মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।

বিএফইউজে মহাসচিব এম.আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে অনেক সাংবাদিক আছে যারা তাদের বিবেককে গণভবনে বন্ধক রেখে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে। অনেকে তারকা সম্পাদক হিসেবে দাবী করলেও সরকারের দাসত্ত্ব করছে নির্লজ্জভাবে। সাংবাদিক এবিএম মূসা সত্য কথা লিখতে গিয়ে অনেক অপমানিত হয়েছেন।

টিভি লাইসেন্স থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মৃত্যুর পর সংসদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা পর্যন্তও পড়তে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে আটকে রেখেছে। বিএফইউজে সভাপতি শওকত মাহমুদ যখন সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছিল তখন তাকেও মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

কবি আব্দুল হাই সিকদার বলেন, আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র যেমন এক পাত্রে থাকতে পারে না তেমনি আওয়ামী লীগ ও গণমাধ্যমও এক সঙ্গে চলে না। আওয়ামী লীগ গণমাধ্যমের অধিকার হরণ করেছে। মানুষ আজ সত্য প্রকাশ করতে ভয় পায়। বর্তমানের মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে যে শাসন ব্যবস্থা চলছে তা বাকশালকেও হার মানায়। এভাবে দেশ বেশিদিন চলতে পারে না।

তিনি বলেন, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবিএম মূসা ছিলেন ক্রান্তিকালের নায়ক। তার জীবনের শেষ অধ্যায়টা ছিল অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সত্য উচ্চারণে ছিলেন নির্ভিক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনিই প্রথম বলেছিলেন যে সরকারের লোকজনকে দেখলে ‘তুই চোর, তুই চোর’বলতে হবে।

‘স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন’এমন মন্তব্য করে জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, যারা এই ইউনিয়ন নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং এখনো যারা চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিচার এই বাংলান মাটিতে একদিন হবেই।

তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকরা আজ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা আজ সত্য উচ্চারণ করলেই মামলা-হামলা-গুম-খুনের শিকার হচ্ছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, এখনও সময় আছে অন্যায়ের পথ থেকে বেড়িয়ে এসে সত্যের পথে আসুন।

এআই