জঙ্গিবাদ নির্মূলে যে কোনো পদক্ষেপে সরকারের সঙ্গে সাংবাদিকরা হাতে হাত মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদী মানববন্ধনে এ কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা।

জেগে ওঠো দেশবাসী, রুখে দাঁড়াও জঙ্গিবাদ-এ বিষয় সামনে রেখে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ডাকে এ মানববন্ধন পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নে মহাসচিব ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ ও মোল্যা জালাল এবং বিএফইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অমিয় ঘটক পুলক।

সমাপনী বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী এ প্রতিবাদী মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন ।

গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘সাংবাদিকরা শুধু কলম সৈনিক নয়, সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত মাঠের সৈনিকও। অতীতের সব আন্দোলনে সাংবাদিকরা মঠে থেকেছে। মুক্তিযুদ্ধে মাঠে থেকেছে। সুতরাং আমাদের এই যে সংগ্রাম, আন্দোলন, সম্পৃক্ততা- এটা ঐতিহাসিক সত্য। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে সংক্ষিপ্ত মহাকাব্য।’

‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) বলেছিলেন, “আমাকে দাবাইয়া রাখতে পারবা না।” আমরা বঙ্গবন্ধুর সে কথা উচ্চারণ করে বলতেছি, তোমরা যারা অপশক্তি, তারা আমাদের দাবাইয়া রাখতে পারবা না। কারণ আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত’ বলেন সমকাল সম্পাদক।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘ইসলাম ধর্মে সহিংসতার কোনো ঠাঁই নেই। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আজকে যারা ইসলামের নামে সহিংসতা করছে তারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামকে কলঙ্কিত করছে। ধর্মের নামে অধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রকৃত ইসলামের অনুসারী মুসলিম সমাজ ও অসাম্প্রদায়িক নাগরিক সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের যে কোনো পদক্ষেপের সঙ্গে সাংবাদিকরা থাকবেন বলেও জানান মনজুরুল আহসান।

রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যে সংকটের মোকাবেলা করছে, এখানে কোনো রাজনীতি নেই। এখানে সারা জাতি ঐক্যবদ্ধ। এই সন্ত্রাসবাদ রুখতে হবে। আজকে সাংবাদিকরা রাস্তায় নেমে এসেছে। সন্ত্রাসের ব্যাপারে সাংবাদিকদের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইসলামের নামে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তারা মুসলমান না। তাদেরকে রুখে দিতে হবে।’ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে শাস্তি পাওয়াদের স্বজনদের বিএনপির কমিটিতে স্থান দেওয়ায় এই সাংবাদিক নেতা বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেন।

ওমর ফারুক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাছে রাজনৈতিকভাবে পরাজিতরাই দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তারাই জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করছে। এ দেশের জঙ্গিবাদ কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের অংশ নয়।’

শাবান মাহমুদ বলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন রুখে দাঁড়িয়েছে এবং সব সময় রুখে দাঁড়াবে।’

আব্দুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা যদি বাঙালি সাংস্কৃতিকে ধারণ করে এগুতে পারি তাহলে জঙ্গিবাদ মোকাবেলা সম্ভব। তার সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশে সাম্পাদায়িক রাজনীতির কোনো স্থান ছিল না। পঁচাত্তর সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর এ দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বীজ বপন করে জিয়াউর রহমান। আজ এদিনে আমরা জিয়াউর রহমানকে ধিক্কার দিতে চাই। গোলাম আযমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধীকে বাংলাদেশে এনে যেদিন নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান, সেই দিনই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, গোলাম আযমের নাগরিকত্বের জন্য সিগনেচার ক্যাম্পেইন করা হয়েছিল। তাতে অনেক সাংবাদিকও যুক্ত ছিলেন।’

মানববন্ধনের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ ও সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এসএ/টাইম