কোনো সমাজে মুক্ত তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে সেখানে অসত্য ও গুজবনির্ভর বিভ্রান্তির বিস্তার ঘটে। তাতে সমাজে কট্টরপন্থা ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। খুনোখুনি, হানাহানি দেশ ও সমাজ জীবনকে গ্রাস করে।
একের পর এক গণমাধ্যম বন্ধ করে ক্ষমতাসীন সরকার দেশকে সেরকম ভয়াবহ পরিস্থির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এখন দেশে হিটলারের চেয়েও খারাপ শাসন চলছে। সরকারের অসহিষ্ণুতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আমার দেশ, শীর্ষ নিউজ, আরটিএনএন ও দিনকাল অনলাইনসহ ৩৫টি নিউজ পোর্টাল বন্ধের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা এসব কথা বলেন।
রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অবস্থিত সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিএফইউজে’র সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজের মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজীজ, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজে’র সহ-সভাপতি সৈয়দ আলী আসফার, সাংবাদিক নেতা কামার ফরিদ, জাকির হোসেন, শহিদুল ইসলাম, এরফানুল হক নাহিদ, আবুল কালাম মানিক, রাশেদুল হক, সাখাওয়াত ইবনে মঈন চৌধুরী, নাসির উদ্দিন শোয়েব, ডি.এম. আমিরুল ইসলাম অমর, বোরহান উদ্দিন, মীর হোসেন মীরু, মাসুদুজ্জামান প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএফইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতার চেতনার নামে আজ সারাদেশে মানুষের ওপর নির্যাতন, দলন, নিপীড়ন চলছে। তারা যে স্বাধীনতার চেতনার কথা বলছে তা ভুয়া চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। দেশের কেউ আজ নিরাপদ নেই।
তিনি বলেন, সরকার মিডিয়াকে নিজেদের গদি রক্ষার কাজে ব্যবহার করতে চায়। সে জন্য ভিন্নমতের কোনো মিডিয়া সহ্য করতে পারছে না। অনেক মিডিয়াও আজ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। জনপ্রিয় মিডিয়াগুলো একের পর এক বন্ধ করার ধারাবাহিকতায় আমার দেশ, শীর্ষ নিউজ ও দিনকাল অনলাইনসহ ৩৫টি নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগেও দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ান ও আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করেছে।
তিনি বলেন, আজ কেউ সত্য কথা বলতে পারছে না। বললেই তাকে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
ড. ইউনুস অলিম্পিকে মশাল নিয়েছে তার সংবাদও মিডিয়ায় যথাযথভাবে প্রকাশ হয়নি। তিনি বলেন, দেশের কোনো মানুষ আজ নিরাপদে নেই। সাংবাদিকরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে । অস্ত্র ও ক্ষমতার জোরে প্রেসক্লাব জবর দখল করা হয়েছে।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, ভোটাবিহীন সরকার গণমাধ্যমের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত প্রকাশ করলেই তাদের উপর চরম নির্যাতন করা হচ্ছে। যেন ভিন্নমত প্রকাশকারী কেউ দেশে থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, জনগণের কাছে এই সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে।
বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ বলেন, ৩৫টি নিউজ পোর্টাল কেন বন্ধ করা হয়েছে তার কোনো কারণ দেখানো হয়নি। এর আগে দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত, ইসলামিক, চ্যানেল ওয়ানসহ সারাদেশে বহু সংবাদমাধ্যম বন্ধ করেছে তারও কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
শুধুমাত্র ভিন্নমত পোষণের কারণে এসব গণমাধ্যম বন্ধ করা হয়েছে। গণমাধ্যমের কন্ঠ রোধ করে, গণতন্ত্রকে ভূলুন্ঠিত করতে এই সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চায়। গণমাধ্যম দলনে নতুন নতুন নজির সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসন ও মুক্ত গণমাধ্যম এক সাথে চলে না। তা বার বার প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী সরকারও ন্যূনতম ভিন্নমত সহ্য করতে চাইছে না।
তিনি অবিলম্বে সব বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়ার জোর দাবি জানান এবং সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমান, আবদুস সালামসহ কারাবন্দী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মুক্তির দাবি জানান। তানা হলে গণতন্ত্রকামী জনগণ ও সাংবাদিক সমাজ যখন সর্বাত্মক আন্দোলন করবে তখন বাঁচার গেটওয়ে বন্ধ হয়ে যাবে।
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, সরকারের বিপক্ষে কোনো গণমাধ্যম আজ কিছু লিখতে পারছে না। লিখলেই তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সরকার মিডিয়ার স্বাধীনতা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ভোটারবিহীন সরকার গণতন্ত্রের কথা বলে মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে।
এসএম





