ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ক্ষমতাসীন সরকার ভিন্নমতের গণমাধ্যম দলনে একের পর এক গণমাধ্যম বন্ধ ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেই থামছে না, সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনের শীর্ষ নেতা শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের গোল চত্বরে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তারা এসব একথা বলেন।

বক্তারা অবিলম্বে সকলমিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে বলেন, আপনাদের ভয় পেলে চলবে না, সাহস সঞ্চয় করতে হবে, অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশে সংবাদপত্র, মিডিয়াকর্মী কেউই নিরাপদ নয়। এই মুহূর্তে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, ডিইউজের গঠনতন্ত্র ও সংগঠনবিরোধী কাজে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই মহলটি অপতৎপরতা থেকে বিরত না হলে তাদের বিরুদ্ধে ডিইউজের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চরম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংগঠনের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদারের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক শাহিন হাসনাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি যথাক্রমে বিশিষ্ট ছড়াকার আবু ছালেহ, আব্দুস শহিদ, সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, প্রবীণ সাংবাদিক রকিব উদ্দিন, সাংবাদিক গোলাম আজাদ, দৈনিক সংগ্রামের ইউনিট চীফ সাদাত হোসাইন, বাসসের ইউনিট চীফ আবুল কালাম মানিক, দৈনিক ইনকিলাবের ইউনিট চীফ ওমর ফারুক আল হাদি, নয়াদিগন্তের ইউনিট চীফ ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, দৈনিক দিনকালের ইউনিট চীফ সৈয়দ আকরাম, দৈনিক মুক্ত খবরের ডেপুটি ইউনিট চীফ জসিম মেহদি, ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি খায়রুল বাশার ও ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন।

সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান শোক প্রস্তাব পাঠ ও বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেন। কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট পেশ করেন পরিষদের সদস্য এরফানুল হক নাহিদ। নিহত সাংবাদিকদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন দৈনিক সংগ্রামের ইউনিট চীফ ও সহকারী বার্তা সম্পাদক সাদাত হোসাইন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মীর আহমেদ মীরু প্রমুখ।

ইউনিয়নের সাধারণ সভা করার জন্য হল বরাদ্দ না দেয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের রুম দেয়া হয়নি অথচ দখলদারদের রুম দেয়া হয়েছে। এরকম পরিস্থিতি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো হয়নি। তিনি বলেন, এখানে আজ শওকত মাহমুদের বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। অথচ দিনের পর দিন তাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। শওকত মাহমুদ গুরুতর অসুস্থ। তাকে বিনা কারণে কোন ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করে একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও শওকত মাহমুদসহ গ্রেফতারকৃত সকল সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেন।

বিএফইউজের মহাসচিব এমএ আজিজ বলেন, আজ সাংবাদিকরা তাদের বসার জায়গা পাচ্ছে না। আর এতে বুঝা যায়, আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে কী নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে এ দিনটি। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদের ভয় পেলে চলবে না। সাহস সঞ্চয় করতে হবে এবং অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, ৬০ বছরের একটি প্রতিষ্ঠান আওয়ামীকরণ করা হয়েছে। অবৈধভাবে কমিটি করে যা ইচ্ছে তা করা হচ্ছে। এমন নজির কোথাও নেই। প্রেস ক্লাবের হল বরাদ্দ না দেয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতির জন্য সুবিধাভোগীরাই দায়ী। এরা পরগাছা তাই এদের হাত থেকে সাবধান থাকতে হবে।

কবি আব্দুল হাই শিকদার তার বক্তব্যে বলেন, আজ যারা গণতন্ত্রের পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য এখানে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ ও সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস করানোয় ধন্যবাদ জানান সকলকে। তিনি বলেন, সাধারণ সভা না করার জন্য আমাদের গত এক সপ্তাহ যাবত বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি ধমকি দেয়া হয়। আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া আমরা সভা করতে পেরেছি।

আব্দুস শহিদ বলেন, ১৯৮২ সালে ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার পর অদ্যাবদি কত উত্থান পতন দেখেছি। ইউনিয়নকে কখনো দুর্বল করবেন না। সাংবাদিক ইউনিয়ন হচ্ছে শক্তি। সেই শক্তিকে কখনোই দুর্বল করবেন না। তিনি বলেন, সংবাদপত্র মিডিয়া কর্মী আজ কেউই নিরাপদে নেই। এই মুহূর্তে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সভায় নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের আজ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না, যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান দেয়া হচ্ছে না। এ কারণে দেশের গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন।

সভায় বিএফউজের সভাপতি শওকত মাহমুদ, আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ গ্রেফতারকৃত সকল সাংবাদিকের মুক্তি দাবি, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিসহ সকল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার, বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া, অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন ও নবম ওয়েজবোর্ড গঠনসহ সাংবাদিক-কর্মচারীদের জন্য বোর্ড গঠন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের দাবি সর্বসম্মতি ক্রমে গৃহীত হয়।

সভায় অভিযোগ উঠে ডিইউজের গঠনতন্ত্র ও সংগঠন বিরোধী কাজে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই মহলটি অপতৎপরতা থেকে বিরত না হলে তাদের বিরুদ্ধে ডিইউজের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চরম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাধারণ সভায় ডিইউজের নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে ঘোষণা দেয়া হয়।

কেবি