ব্রিটেনে বাংলা গণমাধ্যম কর্মীদের একমাত্র প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের (এলবিপিসি) নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে জনমত সম্পাদক নবাব উদ্দিন এবং সেক্রেটারি পদে পত্রিকা সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। চ্যানেল এস’র চীফ রিপোর্টার মুহাম্মদ জুবায়ের বহাল আছেন ট্রেজারার পদে।

গত ৩১ জানুয়ারি শনিবার পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেশন ইভেন্ট ভেন্যুতে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের এজিএম এবং দ্বি-বার্ষিক সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে ক্লাবের ১৫ টি পদের মধ্যে মাত্র তিনটি পদে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বাকী ১২টি পদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

নির্বাচন হওয়া তিনটি পদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কমিউনিকেশন্স এডভাইজার মাহবুব রহমান ১১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দর্পন ম্যাগাজিনের সম্পাদক রহমত আলী পেয়েছেন ৫৫ ভোট। পার্টনারশিফ এন্ড নেটওয়ার্ক রিলেশনশিফ সেক্রেটারি পদে সাপ্তাহিক দেশ’র সম্পাদক তাইছির মাহমুদ ৮৯ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেন।

এর বিপরীতে সাপ্তাহিক বাংলা টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক দেওয়ান মোহাম্মদ সায়েম চৌধুরী পেয়েছেন ৭৪ ভোট। এছাড়া কমিউনিকেশন্স সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা টিভির হেড অব নিউজ এবং সাপ্তাহিক বাংলা পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক মিলটন রহমান।

তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১০৭। এর বিপরীতে সাপ্তাহিক সুরমার বার্তা সম্পাদক আব্দুল কাইয়ূম পেয়েছেন ৫৮ ভোট। এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত অন্য প্রার্থীরা হলেন এমপ্লয়েবিলিটি এন্ড ট্রেইনিং সেক্রেটারি মোহাম্মদ মতিউর রহমান চৌধুরী, ইনফরমেশন এন্ড টেকনোলজি সেক্রেটারি মোহাম্মদ সোবহান,  ইভেন্ট সেক্রেটারি তৌহিদ আহমদ, বিজনেস এন্ড ইনোভেশন সেক্রেটারি আমিরুল চৌধুরী, গভর্নেন্স এন্ড পলিসি সেক্রেটারি সৈয়দ মনসুর উদ্দিন, ফান্ড রেইজিং সেক্রেটারি জাকির হোসেন কয়েছ, কমিউনিটিজ সেক্রেটারি আহাদ চৌধুরী বাবু, ফরেইন এফেয়ার্স এন্ড ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি আবু সালেহ মোহাম্মদ মাসুম এবং ফ্যাসিলিটিস সেক্রেটারি সালেহ আহমদ। 

এবার মাত্র তিনটি পদে নির্বাচন হলেও ভোটার উপস্থিতির হার ছিল উল্লেখযোগ্য। ক্লাবের মোট ১৯০ জন ভোটারের মধ্যে ১৬৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। মাহমুদ হাসান এমবিই’র নেতৃত্বে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচন পরিচালনা করে। অপর দুই কমিশনার ছিলেন বজলুর রশিদ এমবিই এবং হাবিব রহমান।

এর আগে দুপুর ১ টা থেকে শুরু হয় বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)। প্রেডিডেন্ট নবাব উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী বিগত দুই বছরে ক্লাবের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। আর্থিক হিসাব পেশ করেন ট্রেজারার মুহাম্মদ জুবায়ের। সর্ব সম্মতিক্রমে ক্লাবের হিসাব অনুমোদ পায়। 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একমাত্র ব্রিটিশ এমপি রুশানারা আলী এবং ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাউকমিশনার এম এ হান্নান শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। ক্লাবের লাইফ ও ডোনার মেম্বারদের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ছিলো বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এম কে মিলনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ছায়া আক্তার রেখা, মাহবুবুর রহমান সবুজ, মমতাময়ী দাস, মোস্তফা কামাল মিলন, নাজমুন নাহার মাসুমা, তারিক হোসাইন এবং সাঈদা চৌধুরী।

বাদ্যযন্ত্রীদের মধ্যে কী বোর্ডে ছিলেন ডগলাস গোমেজ, তবলায় পিয়াস বড়ুয়া, গিটারে ছিলেন রিয়াদ এবং মিউজিকের পুরো বিষয়টির সমম্বয় করেন স্বপন।  ব্রিটেনে বাংলা সংবাদ পত্র কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন হিসেবে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের গুরুত্ব যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে এই সংগঠনের পেশাদারিত্ব। ২০০৩ সাল থেকে দুই বছরের নিয়মিত বিরতি দিয়ে সংগঠনের এজিএম ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৩১ জানুয়ারি ছিল এলবিপিসির অষ্টম নির্বাচন।

এসএইচ