ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। এসময় তারা খুনিদের বিচারসহ ১২ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে।

শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরির সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাব ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল আমিন রোকন, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল আমিন গাজী বলেন, মত প্রকাশে বাধা, গণতন্ত্র বিলিয়ে দেয়া ও স্বাধীনতার বিপক্ষে যারা তৎপরতা চালায় সাংবাদিক সমাজ কখনো তা সহ্য করবে না। আমরা এই কুচক্রীদের বিরুদ্ধে বরাবরই রাজপথে আন্দোলন করেছি,করবো এবং  চালিয়ে যাবো।

ছাত্রলীগের হাতে নির্মম নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক এই মেধাবি ছাত্র আবরার। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সে যে কথা বলেছে তা শুধু তার একারই কথা নয় বরং এই দাবি এদেশের ১৬ কোটি মানুষের।

এদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রুহুল আমিন গাজী আরও বলেন, আজ দেশের সর্বত্র সন্ত্রাসের জনপদে পরিনত হয়েছে, এ অবস্থা আর চলতে দেয়া যায় না। গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সবাইকে একসঙ্গে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ বলেন, আবরারের মতো একজন মেধাবী ছাত্রকে এভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় সারাদেশ স্তব্দ হয়ে গেছে। দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়ে সরকার ও তার দলের লোকজন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। মেধাবি এই ছাত্রকে ছাত্রলীগের বর্বর নির্যাতনে মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারিনা।

তিনি বলেন, মানুষ এখন সত্য কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। দেশের স্বার্থে আমাদের আরেকবার মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে হবে।

এম আবদুল্লাহ বলেন, আবরারকে হত্যা করা মানেই হচ্ছে মত প্রকাশে বাধা দেয়া। তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগ শুধু বুয়েটের একজন ছাত্রকেই হত্যা করেনি সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন নিপিড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সাংবাদিক সাগর-রুনিসহ একজন সাংবাদিক হত্যারও বিচার হয়নি।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, যখন কেউ ভারতের সঙ্গে দেশ বিরোধী চুক্তির বিপক্ষে কথা বলার সাহস পায়নি, ঠিক তখনই আবরার দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে তার প্রতিবাদ জানিয়ে ছিল। তিনি বলেন, আবরার এদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। সার্বভৌমত্বের বিরোধী আবরারের খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

শহিদুল ইসলাম বলেন, আবারের অপরাধ সে দেশের পক্ষে কথা বলেছিল। সে দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল। তার স্ট্যাটাসের কোথাও কোনো উস্কানী ছিল না, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সে মন্তব্য করেনি। দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এদেশের গণমাধ্যমগুলোর যে কথা বলতে পারেনি সেই কথাই বলেছিল আবরার।

ভারতের সঙ্গে সরকারের দেশবিরোধী যে চুক্তি হয়েছে তার বিপক্ষে মত প্রকাশ করতে গিয়ে আবরারের মতো একজন মেধাবী ছাত্রকে ছাত্রলীগ নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আবরার শুধু একজন মায়ের সন্তানই নয়, আজ সে বাংলাদেশে একটি বিপ্লবের নাম।

সাংবাদিকদের ১২ দফা দাবি:

১. বুয়েটের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরারের খুনিদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে।

২. ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৩. বুয়েটের দালাল ভিসিকে পদত্যাগ করতে হবে।

৪. আবরার হত্যার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৫. ৭ অক্টোবর আবরার দিবস ঘোষণা করতে হবে।

৬. ফেনি নদীর পানি বন্টনসহ ভারতের সাথে দেশের স্বার্থ বিরোধী চুক্তিসমূহ বাতিল করতে হবে।

৭. বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখলমুক্ত করে সহবস্থান নিশ্চিত শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

৮. সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতিসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হবে।

৯. বন্ধ মিডিয়া খুলে দিতে হবে।

১০. কথায় কথায় সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হগবে।

১১. নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ গেজেটে সংযোজিত সাংবাদিকদের স্বার্থ রিরোধী ধারা, উপধারা বাতিল করে অবিলম্বে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করতে হবে।

১২. দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে বর্তমান অনির্বাচিত সরকারকে পদত্যাগ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে।

এমবি