দেশের র্শীষ আলেম, বাংলায় সীরাত সাহিত্যের জনক, ইসলামী রেনেসাঁর অগ্রদূত, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি, তাফসীরে মাআরিফুল কোরআনসহ অসংখ্য গ্রন্থের অনুবাদক, রাবেতা আলম আল ইসলামীর সদস্য, ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস-চেয়ারম্যান ও মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার সকাল ১১টায় ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের চরশাঁখচূড়া গ্রামে মরহুমের নিজ বাড়ি সংলগ্ন মরহুমের প্রতিষ্ঠান আনসারনগর দারুল কোরআন মাদ্রাসার মাঠে তৃতীয় নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা নামাজের ইমামতি করেন মরহুমের ছোট ছেলে আহমদ বদরুদ্দীন খান। জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে বাবা-মার কবরের পাশে তাকে দাফন হয়।

এর আগে রবিবার সকাল ১০টায় মরহুমের বাসভবন ঢাকায় গেন্ডারিয়া ডি.আই.টি পাট এলাকায় মরহুমের প্রথম জানাজা ও বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ নেয়া হয় গফরগাঁওয়ে।

সোমবার সকাল থেকেই মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের লাশ দেখার জন্য ছুটে আসছিলেন উপজেলাসহ দূর-দূরান্তের মানুষ। সকাল ১১ টায় জানাজার মাঠ পুরোটাই ভরে গেলে আশেপাশের রাস্তা ও একটি বাজারেও মানুষকে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।

মাওলানা মুহিউদ্দীন দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ ছিলেন। তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে গত বুধবার তাকে রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানে কৃত্রিমভাবে তার শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে জ্ঞান ফেরার কিছুক্ষণ পর তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে তাকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উপমহাদেশের বিশিষ্ট এই আলেমে দ্বীনের মৃত্যুতে আলেম সমাজে নেমে এসেছে শোকের ছাঁয়া। মাওলানা মহিউদ্দীন খান বাংলাদেশের আলেম সমাজের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তাফসিরে মাআরিফুল কুরআনের অনুবাদ ছিল তার কর্মজীবনের অনন্য অবদান। তিনি বাংলাদেশের ইসলামি রাজনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেশ অবদান রাখেন।

এমআইএস