দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হওয়া মামলায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকসহ (জিএম) পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হাওলাদার তদন্ত শুরু করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, বেসরকারি একটি টেলিভিশনের সাংবাদিক মঞ্জুর মোরশেদ রিয়েন ঈশ্বরদী বাইপাস রেলওয়ে স্টেশনে আহত হওয়ার ঘটনায় ১৭ ডিসেম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ মামলাটি দায়ের করেন রিয়েনের বাবা মাহবুব মোর্শেদ খান জেম। মামলা দায়েরের ১৫ দিন পর তদন্ত কাজ শুরু করল ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা পুলিশ।

প্রথম দিন সাংবাদিক রিয়েনসহ দু’জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

রিয়েন জানান, ঘটনাটি তদন্তের শুরুতে রেল পুলিশ গড়িমসি করেছে। তবে, দেরিতে তদন্ত শুরু হলেও তিনি সুবিচার আশা করেন।

মামলার বাদী রিয়েনের বাবা জেম খান দাবি করেন, একটি মহল বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তৎপর রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে দোষী কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করার দাবি জানান তিনি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ইসমাইল হাওলাদার জানান, নিরপেক্ষভাবে তিনি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় অভিযুক্ত পাঁচ জন হলেন- রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আব্দুল আওয়াল ভূঁইয়া, ভারপ্রাপ্ত ডিআরএম আরিফুজ্জামান, বিভাগীয় কর্মকর্তা শ্রী সুজিত কুমার বিশ্বাস, ঈশ্বরদী বাইপাস রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার গাজী গোলাম ফেরদৌস ও গার্ড আব্দুর রউফ।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১০ অক্টোবর ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন থেকে তার ছেলে সাংবাদিক রিয়েন ও তার পুত্রবধূ ডা. রুমানা আহমেদ অসুস্থ অবস্থায় আন্ত:নগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। রেলওয়ের গার্ড ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাটফর্মের বাইরে ট্রেনটির ৩টি কম্পার্টমেন্ট মাঠের মধ্যে দাঁড় করান।

এছাড়া, ট্রেনের মাঠের মধ্যে দাঁড় করানো ৩টি কম্পার্টমেন্টে ওঠার ৪টি দরজা থাকলেও মাত্র ১টি দরজা খোলা রাখা হয়। ওয়াকিটকির মাধ্যমে ট্রেনের চালককে ট্রেনের বাদ পড়া ৩টি বগি প্লাটফর্মে আনার অনুরোধ করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এমন অবস্থায় ট্রেনে উঠতে গিয়ে রিয়েন মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান। দীর্ঘদিন ঢাকার সমরিতা ও স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

জেএ