সরকার গণমাধ্যমকে বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার বানাতে চায় বলে দাবি করেছেন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিরা। এসময় তারা বলেন, বিটিভিকে, বাংলাদেশ বেতারকে কেউ বিশ্বাস করে না। যারা বিটিভি ও বেতার জনগণকে বিশ্বাস করাতে পারেনি। তারা কিভাবে সম্প্রচার নীতিমালা করে জনগণকে গণমাধ্যমের সংবাদ বিশ্বাস করাবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘নিয়ন্ত্রণমূলক সম্প্রচার নীতিমালা জনগণ মানবে না’শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ সব কথা বলেন।

সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবু সাঈদ বলেন, ‘নীতিমালার নামে পাগলামি হচ্ছে। নীতিমালা পাগলরা করছে কি না জানি না। তবে এটা করছেন অতি জ্ঞানীরা। আকাশ যেখানে উন্মুক্ত সেখানে এই নীতিমালা দিয়ে কোনোকিছু আটকানো যাবে না। এই নীতিমালা টিকবে না। টিকতে পারে না।’

আবু সাঈদ বলেন, ‘এই নীতিমালা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানে আমাদের কথা বলার স্বাধীনতার কথা রয়েছে। একটি মামলা টুকে দিলেই এই নীতিমালা টিকবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘পৃথিবীর সব সরকার মিথ্যা বলে। সত্য লুকাতে চায়। সাংবাদিকদের কাজই হল তা প্রকাশ করা। ছিদ্রান্বেষণ করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিটিভি, বাংলাদেশ বেতারকে কেউ বিশ্বাস করে না। যে সকার বিটিভি ও বেতারকে জনগণকে বিশ্বাস করাতে পারে না। তারা কিভাবে সম্প্রচার নীতিমালা করে জনগণকে গণমাধ্যমের সংবাদ বিশ্বাস করাবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, গণমাধ্যম তো এমনিতেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আমাকে নুরুল কবিরকে চ্যানেল আইয়ের টক-শোতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওদের তো সাহস নেই আমাকে, নুরুল কবিরকে ডাকার। এ ভাবে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

ড. নজরুল বলেন, ‘সম্প্রচার নীতিমালায় অসংখ্য স্পষ্টতার আছে। নীতিমালায় বলা আছে, বন্ধু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। বন্ধু রাষ্ট্রের সংজ্ঞা কি? তাহলে আমরা কি তিস্তার কথা বলতে পারব না। ফেলানী, বাংলাদেশে ভারতীয়দের অবৈধ চাকরির কথা বলতো পারব না। এ সব বক্তব্য কি দেশবিরোধী?’

সাংবাদিক আশরাফ কায়সার বলেন, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা থেকে এখন বলা হচ্ছে অমককে-তমককে টক-শোতে আনবেন না। সরকার টক-শোকে ভয় পায়।

তিনি সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন, 'সরকারের বোঝা দরকার ’৭৫- এ গণমাধ্যম বন্ধ করার প্রায়শ্চিত্ত আওয়ামী লীগ একবার করেছে। এবারও করতে হবে।'

ড. শাহদিন মালিক বলেন, তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বৈরাচারী বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে। প্রথমে তারা জনগণকে গুলতি মারছে তার পর কামান মারবে। নীতিমালা তৈরি করে দেখবে কি প্রতিক্রিয়া হয়। একসময় তারা গণমাধ্যম বন্ধ করে দিবে। এখন এটি আটকাতে না পারলে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি খুব বেশি হলে মার্চের মধ্যে সংবাদ মাধ্যম বন্ধ হয়ে যাবে।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশকে ধ্বংসের জন্য যতগুলো প্রক্রিয়া নেওয়া দরকার সরকার তার সবই করছে। সরকার নীতিমালা তৈরি করছে মানুষ যাতে আর আমাদের দেশের টেলিভিশন না দেখে স্টার জলসা দেখে।

ঢাকা, ৭ আগষ্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর