রামপালবিরোধী হরতালের সময় এটিএন নিউজের সাংবাদিক এহসান বিন দিদার ও ক্যামেরাপারসন আব্দুল আলীমকে পুলিশের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় সারাদেশের সাংবাদিকদের উপর হামলা-মামলা এবং পুলিশের বর্বর নির্যাতন, সাগর রুনির প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার এবং রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের বিরোধীতা করে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা আধাবেলা হরতালে দায়িত্ব পালনের সময় এটিএন নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক ঈশান দিদার ও ক্যামেরাম্যান আব্দুল আলীমের ওপর পুলিশি হামলা এবং সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানববন্ধন করে ঢাকা বিভাগ সাংবাদিক ফোরাম।
সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান কাজলের সঞ্চালনায় সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাবান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কুদুস আফ্রাদ, মো: আলম হোসেন, অপর অংশের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভুইয়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান খোকন, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক শাজাহান মিয়া, ঢাকা বিভাগ সাংবাদিক ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শাহীন আফরোজ খন্দকার, হেমায়েত হোসেন, মেহেদী হাসান কাজল প্রমুখ।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, দোষীদের বিচার করতে হবে। এই বিচারের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করার দাবি করছি।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের এমন শাস্তি দিন যেন সাংবাদিকদের আর রাস্তায় না নামতে হয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সাগর-রুনির প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার, স্বাধীনভাবে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। সারাদেশে পুলিশ কতৃক সাংবাদিক নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এই সব বন্ধে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
ডিইউজের সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, সাংবাদিক জগতের উজ্জল নক্ষত্র দুই সাংবাদিককে পুলিশি নির্যাতনের মাধ্যমে গোটা পুলিশ জাতি কলঙ্কিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা বলতে চাই, সাংবাদিকদের উপর হামলার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি করতে চায়। আমরাও সরকারের মুখোমুখি হতে চাই না। সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী পুলিশদের মুখোমুখি করে ক্রিমিনাল হিসেবে চিহ্নিত করুন। অন্যথায় সারা দেশের সাংবাদিক সমাজ আন্দোলনে নেমে আসবে। আন্দোলনের জলন্ত আগুনে সাংবাদিক সমাজকে ঠেলে দিবেন না। এর সঙ্গে ওই ঘটনার সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদ।
মানববন্ধনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, আমরা পুলিশের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আজিম, আশুলিয়া-ধামরাই সার্কেলের এএসপি নাজমুল হাসান ফিরোজ ও আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসীনুল কাদিরের কারণে গোটা পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নহচ্ছে। এই তিন কর্মকর্তার জন্য সরকারকে বির্তকের মুখে পড়তে হচ্ছে। অবিলম্বে এদের প্রত্যাহার করার দাবি জানান।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভুইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পুলিশকে জনবান্ধব হওয়ার আহ্বানকে উপেক্ষা করে পুলিশের এ আচরণ রাষ্ট্রবিরোধী এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে দেয়া মন্তব্যকে হাস্যকর ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়। তিনি বলেন, সংবাদকর্মীদের রক্তের রঞ্জিত করবেন না। সাংবাদিকত নির্যাতন বন্ধ করুন।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। এ সময় সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচারসহ সারা দেশে সব সাংবাদিকের ওপর জুলুম ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সাথে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
এমই





