বিএফইউজে সভাপতি শওকত মাহমুদ ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে সরকার গায়ের জোরে জেলে আটকে রেখেছে। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পরও দফায় দফায় শ্যোন অ্যারেষ্ট করে সরকার তাদের আইনের শাসনকে পদদলিত করছে। এমনকি শওকত মাহমুদের মত নন্দিত সাংবাদিক নেতাকে জেলে ডিভিশন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। তাকে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে রাখা হয়েছে। এটা চরম অন্যায় ও অমানবিক। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে। সব বন্ধ মিডিয়া খুলে দিতে হবে।

আজ সোমবার (২৮ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থিত ইউনিয়ন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে  সাংবাদিক নেতারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে’র যৌথ উদ্যোগে শওকত মাহমুদ ও মাহমুদর রহমানের অবিলম্বে মুক্তি, বন্ধ সব মিডিয়া খুলে দেয়া, সাগর-রুনীসহ সব সাংবাদিকের খুনীদের গ্রেফতার ও বিচার, নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবীতে এ সাংবাদিক সমাবেশের আয়োজন করে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্ববায়ক রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজে মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএফইউজের সহকারি মহাসচিব মোদাব্বের হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শহিদুল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি নুরুল আমিন রোকন, ডিইউজের সহসভাপতি সৈয়দ আলী আসফার, কোষাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল আউয়াল ঠাকুর, ল’রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সমপাদক দিদারুল আলম, শেখ রকীব উদ্দিন, মেহেদী হাসান পলাশ, আলী মামুদ, আবদুস সেলিম,খন্দকার গোলাম আজাদ, শামসুল হক বসুনিয়া, দৈনিক ইনকিলাব ইউনিট প্রধান উমর ফারুক আল হাদী, সাংবাদিক নেতা জাকির হোসেন, কবি কামার ফরিদ, মো: বোরহান উদ্দিন, এম এম জসিম, জসিম মেহেদী, খন্দকার আলমগীর হোসেন, খোন্দকার মাসুদ প্রমূখ।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, সরকার শওকত মাহমুদ ও মাহমুদুর রহমানের ওপর সীমাহীন জুলুম করছে। বিনা অপরাধে জেলে বন্দী করে রেখেছে। তিনি বলেন, শওকত মাহমুদ কোন চোর-ডাকাত নন। তিনি সাংবাদিকদের নির্বাচিত নেতা। তিনি গুরুতর অসুস্থ। তাকে যেভাবে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় মাসের ও মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তাকে ডিভিশন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছেনা। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পরও তাকে একটি রাজনৈতিক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট করে সরকার তার প্রতি চরম জুলুম করছে। এর বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ রুখে দাঁড়াবে।

বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের থাকার কথা গণমাধ্যম কার্যালয়ে। সাংবাদিকতা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু বর্তমান সরকার একের পর এক গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে আমাদের দু:সহ বেকারত্বের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। বছরের পর বছর আমাদের রাজপথে আন্দোলন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান সব মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তির প্রাক্কালে আজ আবারও তাকে শ্যোন অ্যারেষ্ট করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সরকার আবারও আইনের শাসনকে পদদলিত করলো। একইভাবে সব মামলায় জামিন ও জামিননামা কারাগারে পৌঁছা সত্ত্বেও শওকত মাহমুদকে মুক্তি না দেয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন থাকলে এমন অবস্থা কল্পনাও করা যায় না।

এমএ আজিজ বলেন, শওকত মাহমুদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা কোন খুনী ও দাগী আসামীর সঙ্গেও করা যায় না। তার অপরাধ তিনি সাংবাদিকদের রুটিরুজির আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সোচ্চার ছিলেন। সে কারণেই সরকারের ভয়।

সভাপতির বক্তব্যে কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, গণমাধ্যমকে টার্গেট করে সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চায়। দেশের বিরোধী দল যদি মেরুদণ্ডহীন ও নপুংশক না হতো তাহলে গণআন্দোলনে এ ফ্যাসিস্ট সরকার অনেক আগেই ভেসে যেত। তিনি অবিলম্বে শওকত মাহমুদ ও মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি না দিলে তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

জাহাঙ্গীল আলম প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কখনোই গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি। তারা গণমাধ্যম দলন ও নিপীড়নের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এটা তাদের জন্য ভয়ংকর বিপদ ডেকে আনবে।

এমআইএস।