ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) কর্মরত অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের রুমের ছবি ও ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলা করেন কয়েকজন কর্মকর্তা। গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার কবির কানন দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। তিনি যাঁদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন, তাঁরা হলেন প্রশাসন-৩-এর সেকশন কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দীন, মো. আহসানুল কবির, রেজিস্ট্রারের ব্যক্তিগত সহকারী শেখ মো. গিয়াস উদ্দীন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল ৯টায় অফিসে থাকার নিয়ম হলেও সকাল সাড়ে ৯টায় অনেক কর্মকর্তার চেয়ার খালি দেখা যায়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ইত্তেফাকের প্রতিনিধি কবির কানন সেগুলোর ছবি ও ভিডিও করছিলেন। ওই তিন কর্মকর্তা তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং হামলা চালান।

হামলার শিকার সাংবাদিক কবির কানন বলেন, ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের কাজে গুরুত্ব দেন না। ছোটখাটো কাজে অনেক সময় নেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কর্মকর্তারা সকাল ১০টা থেকে ১১টার সময় অফিসে আসেন। অনেকে আবার মধ্যাহ্নভোজের সময় চলে যান। পরে আবার আসেন দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে।

‘তা ছাড়া একাডেমিক কাজের জন্য গেলে অফিসে কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। এসব বিষয়ে জানার জন্য আজ সকালে অফিস টাইমে রেজিস্টার বিল্ডিংয়ে যাই। কিন্তু গিয়ে দেখি, অনেক আসন শূন্য। কয়েকজন কর্মকর্তা আমার ওপর হামলা করে মোবাইল কেড়ে নেন। এ ঘটনায় উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি’, যোগ করেন কবির কানন।

কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দীন হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কারো গায়ে হাত তুলিনি। হাত তুলেছেন সেকশন অফিসার নিজাম উদ্দীন।’

তবে নিজাম উদ্দীন বলেন, ‘আমি একটু দেরি করে অফিসে আসি। পরে শুনি এক সাংবাদিক সবকিছু ছবি তুলেছে। এমন করে আরো কয়েক রুমের ছবিও তুলেছে। পরে আমরা সবাই তাঁকে ধরে রেজিস্টারের কাছে নিয়ে যাই। ছবি ডিলেট করতে বলি। তবে গায়ে হাত তুলিনি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। একজন সাধারণ ছাত্রের গায়েও কেউ হাত তুলতে পারেন না। আমি প্রক্টর স্যারকে বলেছি বিষয়টি দেখতে।’

এমআর