প্রথম জানাজা পুরান ঢাকার ইসলামপুর জামে মসজিদে, দ্বিতীয় জানাজা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ও তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এফডিসিতে। এর পর চ্যানেল আইয়ে চতুর্থ জানাজার পর আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত হলেন পথিকৃৎ বিনোদন সাংবাদিক মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন।

এর আগে শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) আনা হয় মৃতদেহ। ওই সময় আওলাদ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি ও চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। পরে সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় জানাজা। এতে অংশ নেন- তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, চলচ্চিত্র নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, মুশফিকুর রহমান গুলজার, কাজী হায়াৎ, এস এ হক অলিকসহ কয়েকশ’চলচ্চিত্রকর্মী।

এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় আওলাদ হোসেন পথিকৃৎ। তিনি দেশীয় চলচ্চিত্রচর্চার সুস্থ ধারা বজায় রাখার জন্য নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। এমন একজন চলচ্চিত্রপ্রেমী সাংবাদিককে হারিয়ে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হল।’

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘চলচ্চিত্রকর্মীদের কাছে আওলাদ খুবই প্রিয় একটি নাম ছিল। সবার প্রিয় এই সাংবাদিক আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এ বড় বেদনার, বড় কষ্টের। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

আওলাদ হোসেনের পরিবারের পক্ষে সবার কাছে দোয়া চান তার ছেলে শাহবাজ হোসেন মুন।

সাংবাদিক আওলাদ হোসেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরী ভিত্তিতে ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ৩টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন ১৯৬৬ সালের ১৯ আগস্ট ঢাকার ইসলামপুরের নিজ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৃত মোবারক হোসেন ও মা লুৎফুন্নেসার পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি চতুর্থ। হাম্মাদিয়া হাই স্কুলের মানবিক বিভাগ থেকে ১৯৮২ সালে এসএসসি, ১৯৮৪ সালে শেখ বোরহান উদ্দীন কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে অনার্স ও ১৯৯০ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।

প্রথিতযশা এই সাংবাদিক ১৯৮৭ সালে দৈনিক খবরের ম্যাগাজিন ‘সাপ্তাহিক ছায়াছন্দ’তে সহ-সম্পাদক পদে যোগদানের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের কর্মজীবন ছেড়ে ২০০৪ সাল থেকে বর্তমান অবধি দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এর পাশাপাশি তিনি দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক দিনকাল, দৈনিক যুগান্তর, সাপ্তাহিক চিত্রবাংলা, সাপ্তাহিক মনোরমা, সাপ্তাহিক বর্তমান দিনকাল, সাপ্তাহিক চিত্রালী, পাক্ষিক প্রিয়জন, পাক্ষিক বিনোদন বিচিত্রা, চ্যানেল আইয়ের পাক্ষিক আনন্দ আলো, পাক্ষিক আনন্দ ভুবন পত্রিকায় নিয়মিত আমন্ত্রিত লেখক হিসেবে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি বিষয়ক কলাম ও প্রতিবেদন লিখেন।

সাংবাদিক হিসেবে তিনি দেশের চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রতিবেদকদের অধিকার আদায় ও চলচ্চিত্রের উন্নয়নে নিজেকে বিভিন্ন আন্দোলনে সম্পৃক্ত করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ২০০২-০৩ কার্যবর্ষে ‘ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক’পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ফিল্ম জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন ১৯৯২ সালের ৯ জানুয়ারি মৌসুমী হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির মো. শাহবাজ হোসেন মুন ও অপরাজিতা হোসেন মীম নামে দুই সন্তান রয়েছে। ছেলে ও মেয়ে দু’জনই বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়ছেন।

এমআর