কৃষির সঙ্গে শিল্পের সংযোগ অপরিহার্য মন্তব্য করে শাইখ সিরাজ বলেছেন,আজকে দেশের কৃষক যেখানে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করেন,সেখানে যদি ৫০ শতাংশ উৎপাদন কমে যায় তাহলে অবস্থাটা কি দাঁড়াবে। কোনো দেশই ১৫০ কোটি টন খাদ্য রফতানি করবে না।
শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে 'দরিদ্র-বান্ধব কৃষি: গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা' শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প 'ক্যাটালিস্ট' এবং সহযোগিতা করে গণমাধ্যম বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা 'সমষ্টি'। গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ।
তিনি আরও বলেন,খাদ্য উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পন্ন হয়েছি-এ আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই। কারণ,ধানের নায্য দাম না পাওয়ায় ইতোমধ্যে অনেক কৃষক তার জমিতে বিকল্প চাষ শুরু করে দিয়েছেন। তারা ততোটুকু ধানই উৎপাদন করছেন,যতোটুকু তার পরিবারের খাদ্যের জন্য দরকার এবং আগামী বছরের বীজের জন্য লাগবে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মূল প্রবন্ধের সুপারিশমালায় তিনি বলেন,মূলধারার সংবাদে কৃষিকে প্রাধান্য দিয়ে গণমাধ্যমগুলোর সংবাদ বিভাগে কৃষিকে আলাদা বিট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রয়োজনে কৃষিভিত্তিক স্বতন্ত্র টেলিভিশন ও রেডিও স্টেশন করে গড়ে তুলতে হবে।
তার মতে,কৃষি বিষয়ে দক্ষ সাংবাদিক গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের পাঠ্যসূচিতে কৃষি সাংবাদিকতা কোর্স চালু করতে হবে এবং কর্মরত সাংবাদিকদের কৃষি সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
শাইখ সিরাজ বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণ হচ্ছে কৃষি। সেই কৃষিকে মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে নিয়ে এসে এর সমস্যা ও সম্ভাবনার কথাগুলো তুলে ধরতে না পারলে কৃষক খাদ্যশস্য উৎপাদনে আগ্রহ হারাবে না। ফলে অদূর ভবিষ্যতে দেশ এক ভয়াবহ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে।
সংবাদে মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক সংবাদের গুরুত্ব তুলে ধরে শাইখ সিরাজ বলেন,কৃষিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আসছে। যেগুলো কৃষি গবেষণা ও জলবায়ুসহ ফসলের প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করে খাদ্য উৎপাদন ঠিক রাখার জন্য অপরিহার্য। এসব তথ্যকে যদি আমরা সাংবাদিকতা পেশার মাধ্যমে কৃষক ও সাধারণ জণগনের কাছে তুলে ধরতে না পারি,তাহলে আমাদের জন্য আবার সেই ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে,যখন এক হাড়ি ভাত রান্না হবে তার মাড়ের জন্য দশজন লাইন ধরে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন,প্রতিদিন সহজেই টেবিলেই খাদ্য পাচ্ছি। তাই কৃষি বিষয়ক সংবাদ সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয় না। কিন্তু আজ যদি দেশে দুর্ভিক্ষ হতো,তাহলে সব সংবাদ মাধ্যমের মূল উপজীব্য হতো খাদ্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসানুল হক ইনু বলেন,সাংবাদিকদের অদক্ষতা,উদাসীনতা এবং জানার অভাবের কারণে মূলধারায় আসছে না কৃষি সংবাদ। কৃষি বিষয়ক সংবাদ প্রচারিত হলেও সেখানে সাংবাদিকদের দক্ষতার অভাবে মূল উপজীব্য বিষয়টি প্রাধান্য পায় না।
তাই কৃষি বিষয়ে সাংবাদিকতা করতে হলে সাংবাদিকদের স্বীয় ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ অথবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন,কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতা করতে হলে সাংবাদিকতার দায়িত্বশীল হতে হবে। ঘটনা বা তথ্যের মূল উপজীব্যটি বুঝতে হবে। কৃষি বিষয়ক সংবাদ করতে এসে কোনো মন্ত্রীর দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে সংবাদ করলে চলবে না।
কৃষিকে গণমাধ্যমে কেন গুরুত্ব দেওয়া হয়না বা কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতার সমস্যা কোথায় বা বিশেষায়িত সাংবাদিকতা শিক্ষা গণমাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা হওয়া উচিত এসব বিষয়ে গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্তা ব্যক্তিরা।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী,ফাহমিদুল হক,সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এলিনা ফেরদৌসি,বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র হেড অব নিউজ মাহমুদ মেনন,দৈনিক সমকালের সহযোগী সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত প্রমুখ।
গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান।
[b]ঢাকা, ১৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]