গত ছয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিবর্তন ডটকমের সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গোপনে অফিসের ছয়জনকে একমাসের বেতন দেওয়া, অফিসের জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হতাশায় ভুগছেন। একইসঙ্গে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।

পোর্টালটির একজন সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বেতনের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, বকেয়া বেতন পরিশোধ করে বনানীর নীলসাগর গ্রুপের মূল অফিসে পরিবর্তনের কার্যালয় স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু মালিকপক্ষ তা বাস্তবায়ন করছেন না।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘মালিকপক্ষ সম্প্রতি পোর্টালটির সহকারী বার্তা সম্পাদক অঞ্জন আচার্য, অনন্যা আশরাফ, আইটি বিভাগের কর্মকর্তা নাজমুস সৌদ, গ্রাফিক্স ডিজাইনার শাওন কুমার বৈরাগী, ডেস্ক স্টাফ শরীফ আহমেদ (ইমন শুভ) ও অফিস সহকারী জুলফিকার আলীকে গোপনে অফিসে ডেকে এক মাসের বেতন দিয়েছেন। বাকি ২০ জনকে বেতন দেওয়া হয়নি।

সহকারী বার্তা সম্পাদক অঞ্জন আচার্য বলেন, ‘মালিকপক্ষ আমাদের ছয়জনকে ডেকে এক মাসের বেতন দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বেতন দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। এ আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বেতন নিতে গিয়েছিলাম। বার বার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও মালিকপক্ষ বকেয়া বেতন দিচ্ছে না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সাংবাদিক বলেন, ‘গত সপ্তাহে পরিবর্তন কর্তৃপক্ষ অফিস সহকারীর সহযোগিতায় অফিসের জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছিলেন। আমরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারায় বাধা দিয়েছিলাম। ফলে তারা জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে পারেনি।’

 তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন বৈঠকে মালিকপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিলেন, আগস্টের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ করে ১ সেপ্টেম্বর বনানীতে অফিস স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার পদক্ষেপই নেয়নি। এমনকি তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হলেও তারা এখন সাড়া দিচ্ছেন না।’

পরিবর্তন ডটকমের বার্তা সম্পাদক রফিকুল রঞ্জু বলেন, ‘বকেয়া বেতন পরিশোধে আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে কথাবার্তা বলে যাচ্ছি। তারা কেবল আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত মালিকপক্ষ বেতন পরিশোধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেননি। এতে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।’

পরিবর্তনে বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৬ জন সাংবাদিক-কর্মকর্তা। গত চার মাসে এ কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩৪ জন। বেতন না পেয়ে বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে অন্য জায়গায় চাকরি নিয়েছেন।

৬ মাস বেতন বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে পরিবর্তন ডটকম লিমিটেডের পরিচালক জিয়াউল হক মোবাইল ফোনে দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু বলব না।’এর পরপরই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সূত্র: দ্য রিপোর্ট

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ