সাংবাদিক ও সংবাদপত্রসেবীদের রেজিস্ট্রার্ড ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে অবিলম্বে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন, আমার দেশ, দিগন্ত টিভিসহ বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়া, সাগর-রুনীসহ সকল সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের বিচার এবং সম্প্রচার আইনের নামে নতুন কালাকানুন বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নির্বাহী পরিষদ।
আজ রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে অনুষ্ঠিত বিএফইউজে’র কার্যানির্বাহী পরিষদের (এফইসি’র) সভায় গৃহীত প্রস্তাবে এ দাবি জানানো হয়েছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে অবস্থিত সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে এ সভা অনুর্ষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া সভায় গণমাধ্যমের ওপর সব ধরণের চাপ ও হুমকি বন্ধ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের দখলদার কমিটি কর্তৃক বাতিলকৃত সদস্যপদ পুনর্বহাল, সারাদেশে ভিন্নমতের সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি ও হয়রানি বন্ধের আহবান জানানো হয়েছে।
বিএফইউজে’র সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন মহাসচিব এম আবদুল্লাহ। সভায় নির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তা ছাড়াও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)সহ বিভিন্ন অঙ্গ ইউনিয়নের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় আগামী ১ এপ্রিল বিএফইউজে’র বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠান, সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার, ন্যায়সংগত দাবি আদায়ে আন্দোলনের কর্মসূচীসহ ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন ভাতা প্রায় দ্বিগুণ করার প্রেক্ষাপটে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করে গণমাধ্যম কর্মীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অষ্টম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয়। সভায় বলা হয়, সাংবাদিকদের রেজিস্ট্রার্ড ফেডারেল বডি হচ্ছে শওকত মাহমুদ ও এম আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন বিএফইউজে। রেজিস্ট্রার্ড ডিইউজে’র নেতৃত্বে রয়েছেন আবদুল হাই শিকদার ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধান। এ দু’টি সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া ওয়েজবোর্ড বা ওয়েজবোর্ড মনিটরিং কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং সাংবাদিক সমাজের কাছে তা অগ্রহণযোগ্য।
সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে বিএফইউজে’র সভাপতি শওকত মাহমুদ, আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চলমান হয়রানিমূলক সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এখন ঘোর দুর্দিন চলছে। বন্ধ গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন বেকার থাকা সংবাদকর্মীদের নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছে। কারাবন্দী ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন, চ্যানেল ওয়ান, ৩৫টি অনলাইন পোর্টালসহ বন্ধ করে দেয়া সকল গণমাধ্যম অনতিবিলম্বে খুলে দিতে হবে। রাজধানীর বাইরে আরও কয়েকশ’ সংবাদপত্র নানা অজুহাতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সহ সভাপতি মুনশী আবদুল মান্নান, সহকারি মহাসচিব মোদাব্বের হোসেন ও মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, কোষাধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক আবু ইউসূফ, প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, নির্বাহী সদস্য আসাদুজ্জমান আসাদ, শাফিউল আলম দোলন, সৈয়দ ফজলে রাব্বি ডলার ও হায়দার আলী, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সরদার আবদুর রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রশীদ শাইন, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি মো; নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহ আলম শফি, সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
জাকির/জারিফ





