বরিশালে তিন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বরিশাল সিটি করর্পোরেশনের মেয়র আহসান হাবীব কামালের পক্ষে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু শুক্রবার বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। এতে ওই সংবাদ কর্মীদের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি এবং ১’শ কোটি টাকার মানহানীর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সংবাদকর্মীরা বলছেন, মেয়রের নানা ব্যার্থতা ও তার পুত্রের দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার বরিশালের অন্যতম পত্রিকা 'দৈনিক আলোকিত বরিশাল' এর প্রকাশক ও সম্পাদক পথিক মোস্তফা, নির্বাহী সম্পাদক ও বার্তা প্রধান এস.এম রফিকুল ইসলাম এবং চীফ রিপোর্টার মাসুদ রানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মানহানীর অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্তপূবর্ক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে-বিগত ২৫মে ওই ৩ সংবাদকর্মী মেয়র কামালের বাসায় গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। মেয়র কামাল ও তার পুত্র রুপম চাঁদা দিতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে আলোকিত বরিশাল প্রকাশক সম্পাদক এবং চীফ রিপোর্টার ২জনে ফোনে ও বাসায় গিয়ে ২৫টি অটোরিক্সার টোকেন দাবি করেন। উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে ওই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে মামলার আসামি করা ওই সংবাদকর্মীরা টাইমনিউজবিডিকে জানান, মেয়র কামাল রুপমদের বাসায় গিয়ে যে ২৫ মে চাঁদাবাজির দিনক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন সেদিন দৈনিক আলোকিত বরিশাল প্রকাশিত হওয়া শুরুও করেনি। পত্রিকাটি বাজারে এসেছে চলতি বছরের ৫জুন। একটি দৈনিক বাজারে আসার আগেই কিভাবে তার প্রকাশক-সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক ও চীফ রিপোর্টার যৌথভাবে চাঁদাবাজি করতে পারে এবং একজন মেয়রের বাসায় গিয়ে চাঁদা চেয়ে সুস্থশরীরে সমম্মানে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। এমন ঘটনা হয়তো পৃথিবীর ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি শোনা যায়নি। পরক্ষণে আবার ২৫টি টোকেন দাবি করা হয়েছে।
তবে এজাহারের কোথাও 'সিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না কামাল' শীর্ষক সংবাদটি মিথ্যা বানোয়াট বলে উল্লেখ করেন নি। তাহলে কী ধরে নেয়া যায় না, প্রকাশিত সংবাদটি সত্য ও তথ্যবহুল-এমন প্রশ্ন ওই তিন সংবাদকর্মীর।
তারা জানান, গত সোমবার দৈনিক আলোকিত বরিশাল পত্রিকায় ‘‘সিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না কামাল’’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। যার অন্তরালে বরিশাল নগরীর তিন প্রবেশদ্বার রুপাতলী, কালিজিরা ও গড়িয়ারপাড়ে সিটি টোলের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির খবর স্থান পায়।
আলোকিত'র সংবাদকর্মীরা দাবি করেন, খবরটিতে বরিশাল বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ঈমান আলী শরীফ বাবুলের বক্তব্য রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বরিশালে প্রতিদিন ৭শ থেকে ৮শত ট্রাক আসা-যাওয়া করছে এবং সিটি টোলে প্রতিটি ট্রাক মালিক শ্রমিক হয়রানীর শিকার হচ্ছে। বিভাগীয় শহর বরিশালে পন্য পরিবহন করতে হলে মিনিপিকআপ থেকে শুরু করে সকল প্রকার মালবাহী পরিবহনের যে ৩ স্থানে টোল দিয়ে আসতে হয়। সেই জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো মেয়র কামাল ও তার অনুসারীরা টেন্ডার ছাড়াই ও কারসাজির মাধ্যমে বাগিয়ে নিয়েছে।
তারা বলেন, মেয়রের একমাত্র পুত্র রুপমের টোকেন বানিজ্যের কথা বরিশাল নগরীর শিশু কিশোর থেকে শুরু ৯০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধার কর্ণকুহুরে পর্যন্ত পৌছেছে। এসব অভিযোগের অসংখ্য প্রমাণ 'আলোকিত বরিশাল' এর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
ঢাকা, ২৬ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





