রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় পবিত্র আল কোরআন পোড়ানোর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন বেসরকারী টেলিভিশনের ক্রাইম রিপোর্টার শাহাবুদ্দিন মাহাতাব ও ক্যামেরা পারসন সনি বর্মন।
সোমবার দিবাগত রাত ১টায় মেরুল বাড্ডায় এ ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন মাহাতাব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, স্রেফ প্রাণে বেঁচে গেলাম। মেরুল বাড্ডায় আল কোরআন পোড়ানোর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে মার খেলাম ও গাড়ি ভেঙ্গে দিল। আর পুলিশ আমাদের রক্ষায় এগিয়ে না এসে বরং হিংস্র হায়নাদের হাতে তুলে দিয়েছে। সহকর্মী ক্যামেরা পারসন একইভাবে নির্যাতনের শিকার। অদ্ভুত লাগে যখন সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা অসহায়।’

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার মেরুল বাড্ডা এলকায় একটি মন্দিরে কোরআন পোড়ানো হয়েছিলো বলে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করে রাখে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিমতলীর স্থানীয় একটি মন্দিরে কোরআন শরিফ পোড়ানো হয়েছে। সোমবার (১১ জানুয়ারি ২০১৬) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১১টার দিকে বাড্ডা থানার ওসি আবদুল জলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে আরও জানা যায়, এলাকার মুসল্লিরা রাত ২টা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। এতে দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।

তবে, পুলিশ জানিয়েছে, গুজব থেকে এমন ঘটনা ঘটেছে। কোন ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য মন্দির ও এর আশপাশ এলাকায় বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
অপরদিকে, মুসল্লিদের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে নিমতলী মন্দিরের সামনে এক মুসলিম ব্যক্তির কাছ থেকে একটি কোরআন শরিফ নিয়ে মন্দিরে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
ওসি জানান, মহাদেব আশ্রম ও কালি মন্দির-এর ভেতরে এক ব্যক্তি কোরআন পুড়িয়েছে অভিযোগ তুলে স্থানীয় মুসল্লিদের একটি অংশ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
তিনি বলেন, আমরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে গুজব বলেই মনে হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এআই, কেবি





